ছবি তোলা তার শখ। তাইতো প্রাণ ও প্রকৃতির ছবি তুলতে মাস ছয়েক আগে বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি ক্যামেরা কেনেন রাহাত আকন্দ। তারপর থেকে ঘুরে ঘুরে অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করেছেন শখের ক্যামেরায়। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর এমন দুঃসয়ে অনাহারী মানুষের কষ্ট  রাহাতকে আহত করে। তাদের জন্য কিছু একটা করতে ব্যাকুল হয়ে উঠে তার মন। কিন্তু কোনো উপায় পাচ্ছিলেন না। অবশেষে সাতপাঁচ না ভেবে দুই দিন আগে শখের ক্যামেরা বিক্রি করে দিলেন।  সেই টাকা দিয়ে শেষ পর্যন্ত শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ গ্রামের রাহাত আকন্দ নানা রকম খাদ্যসামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়েছেন অনাহারী মানুষগুলোর পাশে। 

একই সঙ্গে পাড়া মহল্লা ও অলি গলিতে ছিটাচ্ছেন জীবাণুনাশক স্প্রে। কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনেও তিনি স্প্রে করছেন। শতাধিক অভাবী পরিবারকে চাল-ডালসহ নানা খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন কাওরাইদ গ্রামের মুজিবুর রহমান আকন্দের ছেলে রাহাত।

ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন কারিগরি কলেজের শিক্ষার্থী রাহাত জানান, ক্যামেরা বিক্রির করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেও পরে অনেকেই এগিয়ে আসেন। এলাকার বিত্তশালী বন্ধু-বান্ধবও তাকে সহযোগিতা করেছেন। চাল, ডাল, তেল, লবণ, পিঁয়াজসহ ১০ কেজি পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী শতাধিক পরিবারের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। রাহাতের কাজ এখানেই শেষ নয়, কাওরাইদের বিভিন্ন সড়কে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইক দিয়ে নানাভাবেই মানুষকে সচেতন করছেন। ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন। 

স্থানীয়রা জানান, শুরু থেকেই রাহাত মানুষজনকে সচেতন করে আসেছেন, স্প্রে করছেন বিভিন্ন স্থানে। সর্বশেষে সখের ক্যামেরা বিক্রি করে অভাবী মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন।