যশোর জেলায় এখন পর্যন্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৩০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে পুরো জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

 রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, 'সোমবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যশোর জেলা লকডাউন করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।'

যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, 'রোববার পর্যন্ত যশোর জেলায় ৩০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দু'জন চিকিৎসক ও ৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা চলছে।'

এদিকে, রোববার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আরও ২৭ রোগীর করোনা পজিটিভ এসেছে। চার জেলার ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এই ২৭ জন রোগী শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যশোর জেলায় ১৪ জন। শনিবার পরীক্ষা শেষে রোববার সকালে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে যবিপ্রবি'র জিনোম সেন্টারে ৬৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলো।

যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে শনিবার অষ্টম দিনে চার জেলার ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৭ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যশোর জেলায় ১৪ জন রোগী। এদিন যশোরের ৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া ঝিনাইদহ জেলার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। আর নড়াইলের ৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩ জন এবং মাগুরার ৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

যবিপ্রবিতে ৭টি জেলার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এতে এ পর্যন্ত যশোরের ৩০ জন, ঝিনাইদহের ১০ জন, নড়াইলের ৯ জন, চুয়াডাঙ্গার ৬ জন, মাগুরা ও কুষ্টিয়ার ৪ জন করে এবং মেহেরপুরের দু'জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।