বাজার স্বাভাবিক করতে বিকল্প উদ্যোগ

মিয়ানমার থেকে আসছে পেঁয়াজ আদা রসুন

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২০     আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভোগ্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক করতে বিকল্প দেশ থেকে আনা হচ্ছে পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও ছোলা। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে এসব পণ্য আনা হচ্ছে মিয়ানমার থেকে। গতকাল পর্যন্ত এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টন ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে। নতুন এই আমদানি হওয়া পণ্য বাজারে এলে দূর হবে সংকট। দাম নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এটি। টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে গতকালও ৪২৭ টন পেঁয়াজ ও ৪৫ টন আদা খালাস হয়েছে। এখনও ভোগ্যপণ্য বোঝাই কয়েকটি ট্রলার নোঙর করে আছে ঘাটে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, 'রমজান ও ত্রাণের চাহিদা যোগ হওয়ায় ভোগ্যপণ্যের চাহিদা আগের তুলনায় এবার কিছুটা বেশি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যবসায়ী সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাই বিকল্প বাজার থেকে পণ্য আমদানিকে স্বাগত জানাচ্ছি আমরা। টেকনাফ দিয়ে আগেও পণ্য এসেছে। কিন্তু আগের তুলনায় এবার আমদানির পরিমাণ বেশি।' কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, 'টেকনাফ দিয়ে আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে অতীতেও কারসাজি হয়েছে। তাই এবার সতর্ক আছি আমরা। স্বাভাবিক লাভে পণ্য বিক্রি করলে কোনো সমস্যা নেই। অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।'

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টন ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার ৬৮৬ টন পেঁয়াজ, ২ হাজার ৪৬৫ টন আদা, ৫০৫ টন রসুন, ৭২৯ টন ছোলা ও ৩৬ টন মুগডাল রয়েছে। এতদিন পেঁয়াজ আমদানি বেশি থাকলেও এখন আদা ও রসুন আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। আগামী এক সপ্তাহে আরও প্রায় ১০ হাজার টন ভোগ্যপণ্য আমদানি হবে এই স্থলবন্দর দিয়ে। এর মধ্যে পেঁয়াজ, আদা, ছোলা ও রসুন রয়েছে। ৪৫ টন আদা খালাস হয়েছে গতকাল মঙ্গলবারও। আদা বোঝাই আরও ট্রলার আছে বন্দরে। আছে পেঁয়াজ বোঝাই ট্রলারও। গতকাল এই বন্দর থেকে খালাস হয়েছে ৪০৭ টন পেঁয়াজ।

টেকনাফ স্থলবন্দরের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, 'রমজান কেন্দ্র করে এবার প্রচুর ভোগ্যপণ্য আসছে মিয়ানমার থেকে। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার টন পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ছোলা ও ডাল এসেছে। আগামী এক সপ্তাহে আসবে আরও বিপুল পরিমাণের পণ্য। এই রুট দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের দাম তুলনামূলক কম থাকে। বাজার স্বাভাবিক করতে তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আমদানি হওয়া এসব ভোগ্যপণ্য।'

যেসব প্রতিষ্ঠান টেকনাফ দিয়ে ভোগ্যপণ্য আমদানি করছে তাদের মধ্যে নিউ বার্মিজ মার্কেটের তাজমহল শপিংমল, টেকনাফ বাসস্টেশনের হামিদ অ্যান্ড ব্রাদার্স, বার্মিজ মার্কেটের গফুর এন্টারপ্রাইজ, টেকনাফ রশিদ মার্কেটের পারভীন এন্টারপ্রাইজ, পুরান পালান পাড়ার মিফতাহুল এন্টারপ্রাইজ, গোদার বিলের মিয়া হোসেন ব্রাদার্স, গনি মার্কেটের চৌধুরী ট্রেডার্স, লামার বাজার রোডের এমএস কবির ট্রেডিং, কে কে পাড়ার বড় হাজী ট্রেডার্স, চকরিয়ার পালাকাটা এলাকার রেড ডট এন্টারপ্রাইজ, শাহ পরীর দ্বীপের মাহী অ্যান্ড ব্রাদার্স, কে কে পাড়ার মেসার্স আবসার অ্যান্ড ব্রাদার্স, ওলিয়াবাদের মেসার্স জুনায়েদ এন্টারপ্রাইজ, কলেজপাড়ার শুক্কুর অ্যান্ড ব্রাদার্স, শাহারবিলের ইয়াসিন ফিশিং, কলেজপাড়ার কবির অ্যান্ড সন্স, লামার বাজারের এমএ ট্রেডিং, মাসুম এন্টারপ্রাইজ, কুলালপাড়ার হাজী নূর ট্রেডিং, বাস স্টেশনের এন ইসলাম এন্টারপ্রাইজ, উপরের বাজার এলাকার বেলাল এন্টারপ্রাইজ, গণি মার্কেটের মা এন্টারপ্রাইজ, মাদ্রাসা রোডের বিসমিল্লাহ ট্রেড সেন্টার উল্লেখযোগ্য।