কক্সবাজারের টেকনাফে শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যু্বক নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি, নিহতরা রোহিঙ্গা ও ডাকাত জকির বাহিনীর সদস্য। 

শুক্রবার ভোরে টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ে এই ঘটনা ঘটে জানিয়ে র‌্যাব বলছে, বন্দুকযুদ্ধে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ১৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ।

নিহতরা হলেন- টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পের ডি-ব্লকের আবদুল হামিদের ছেলে আবদুল হাকিম (৩৫) একই ক্যাম্পের অজি উল্লাহর ছেলে রশিদ উল্লাহ (৩০)। 

র‌্যাব জানায়, শুক্রবার ভোরে শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে শীর্ষ ডাকাত জকিরসহ তার দলের সদস্যদের অবস্থানের গোপন খবরে র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদের নেৃতত্বে  র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত জকি গ্রুপ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়। পরে আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবের সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েকঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ চলে। একপর্যায় পরিস্থিতি শান্ত হলে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা জকি গ্রুপের সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় একনলা বন্দুক ৩টি, ওয়ান শুটারগান ৯টি, দেশীয় রাইফেল ৩টি, রামদা ২টি, কার্তুজ ১১টি ও রাইফেলের ১৭টি গুলি উদ্ধার করা হয়। এই অভিযানে র‌্যাব-১৫ এর উপঅধিনায়ক মেজর রবিউল হাসান, মেজর মেহেদী হাসান, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এডিশনাল এসপি বিমান চন্দ্র কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুফিয়া আক্তার রুপা বলেন, শুক্রবার সকালে র‌্যাব সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। গুলিবিদ্ধ দু’জন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। নিহত দু’জনের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। 

র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে গোলাগুলিতে শীর্ষ ডাকাত জকির গ্রুপরে দুই সদস্য নিহত হয়েছে। এতে র‌্যাবের দুই সদস্যও আহত হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুই জনের মৃতদেহ কক্সবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ডাকাত, মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।