চেয়ারম্যানের আত্মসাত করা চাল ফেরত পাচ্ছেন চার নারী

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০   

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের আত্মসাত করা প্রায় দুই হাজার কেজি চাল ফেরত পাচ্ছেন ভিজিএফ কার্ডধারী চার অসহায় নারী। প্রায় দেড় বছর আগে ওই চার নারীকে ভিজিএফ কার্ড করে দেওয়া হয়েছিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। তারা কোনো চাল পাননি এতদিন। অথচ তাদের প্রত্যেকের নামে প্রতিমাসে সরকারি বরাদ্দ ৩০ কেজি হিসেবে ১৬ মাসে প্রায় ২ হাজার কেজি চাল ঠিকই উত্তোলন করা হয়েছে। 

চালগুলো এতোদিন গোপনে আত্মসাত করে আসছিলেন গোদাগাড়ীর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলু ও তার লোকজন। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৩০ এপ্রিল সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে ১৯২০  চাল ওই চার নারীকে ফেরত দেওয়ার লিখিত মুচলেকা দেন চেয়ারম্যান।

চার কার্ডধারী নারী হচ্ছেন- গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভানপুর গ্রামের জয়েন উদ্দিনের মেয়ে জাহানারা (কার্ড নম্বর-১৩৯), আনেস আলীর মেয়ে সামেনা বেগম (কার্ড নম্বর-১৪১), জনাব আলীর মেয়ে মরিয়ম (কার্ড নম্বর-১৩১) ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বলিধপাড়া গ্রামের জহিরের মেয়ে রঙিলা। 

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলু বলেন, ‘ভুল বুঝাবুঝির কারণে এমনটি ঘটেছে। আমি সব চাল ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ওই চার নারী আমাকে প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছেন। 

চাল বিতরণ তদারককারী উপজেলা নারী বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন শাপলা বলেন, ‘বিষয়টি সমঝোতা করে দেওয়া হয়েছে। সবাই বসে চেয়ারম্যানকে চাল ফেরত দিতে বলা হয়েছে। তার কাছ থেকে লিখিত নেওয়া হয়েছে।’

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, ‘সময়মতো ওই চেয়ারম্যানকে চাল ফেরত দিতেই হবে। না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’