সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল থেকে বিশ্বনাথে বাড়িতে পালিয়ে আসার চারদিন পর প্রসূতি এক নারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পওয়া গেছে।

আক্রান্ত ২৫ বছর বয়সী ওই নারীই হলেন উপজেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী। তিনি রামাপাশা ইউনিয়নের ঘোরাইল গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী পেশায় একজন নাপিত।

মঙ্গলবার বিকেলে ওই নারীর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে বলে উপজেলা প্রশাসনকে জানায় সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো: কামরুজ্জামান ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে আইসোলেশনে রাখেন।

এসময় প্রসূতি ওই নারীর বাড়িসহ ৪টি বাড়ি লকডাউন করেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. আব্দুর রহমান মুসা, থানার ওসি শামীম মুসা ও রামপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুজ্জামান। তিনি সমকালকে বলেন, বর্তমানে ওই নারীর কোনও করোনা উপসর্গ নেই। তবে, তাকে গত ৩দিন ধরে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।

তিনি জানান, সপ্তাহ খানেক আগে ওই নারী প্রসব ব্যাথা নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে সিজারে সন্তান প্রসবের পর তিনি হাঁচি-কাশি দিলে সন্দেহ জাগে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের। যেকারেণ তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর ওই নারীকে ওসামনী থেকে করোনা চিকিৎসার জন্যে শামসুদ্দিন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তিনি শামসুদ্দিন হাসপাতালে না থেকে সেথান থেকে পালিয়ে রামপাশার বাড়িতে চলে আসেন।

বিষয়টি ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২ মে শনিবার সকালে ইউএনওকে জানালে তিনি ওই নারীকে খাবার দিয়ে তার বাড়িতেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখেন। এর তিনদিনের মাথায় মঙ্গলবার ওই নারীর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল করোনা পজেটিভ আসলে তিনি (ইউএনও) ওই নারীর বাড়িসহ আরও ৩টি বাড়ি লকডাউন করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. আব্দুর রহমান মুসা সমকালকে বলেন, করোনা আক্রান্ত ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ তারা করেননি। তিনি জানান, এ পর্যন্ত এ উপজেলায় ৩৪জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। তার  মধ্যে ২৯জনের ফালাল নেগেটিভ এসেছে। বাকি ৫জনের রিপোর্ট এখনও আসেনি বলেও জানান তিনি।