বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৫ নারী-পুরুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বুধবার দুপুরে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুপুর ২টার দিকে ‘আমরা করবো জয়’ গানের সুরে সুরে করোনাজয়ী ৫ জনকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেকের হাতে ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

করোনাজয়ী ৫ জনের সঙ্গে করোনা পজিটিভ এক ব্যক্তির স্ত্রী যিনি শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, সুস্থ হয়ে ওঠায় তাকেও ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। 

তাদের বিদায় জানানোর সময়  বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুম আলী বেগম, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় এবং আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাজয়ীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পর পর দু’বার নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- ঢাকাফেরত সারিয়াকান্দির বাসিন্দা রিপন (২৫), সোনাতলার গৃহবধু কোহিনূর বেগম (৪৭), ধুনট উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের নুরুন্নবী (২০), সারিয়াকান্দি উপজেলার মামুনুর রশিদ (২৮) ও বগুড়া শহরের সবুজবাগ এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৪০)। এছাড়াও উপগর্স থাকলেও নুমনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসায় জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে ভর্তি হওয়া তার স্ত্রী মৌসুম বেগমকেও (২৮) ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে এর আগেও দু’জন কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তাদের একজন রংপুরের বাসিন্দা শাহ্ আলম এবং অপরজন পুলিশ কনস্টেবল বগুড়ার আদমদীঘির শাওইল গ্রামের বাসিন্দা আহসান হাবিব। বুধবার নতুন করে ছাড়পত্র পাওয়া ৫ জনসহ ওই হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭ জন সুস্থ হলেন। বর্তমানে ওই হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত ৪ জন জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরও দু’জন ভর্তি আছেন সন্দেহভাজন হিসেবে। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হলেও তেমন কোন উপসর্গ না থাকায় দুই শিশু ও নারীসহ ১৪ জন নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে যাদের দু’টি নমুনা পরীক্ষা নেগেটিভ এসেছে তাদরেকেই সুস্থ হিসেবে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যে ৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে তারা গত ২১ ও ২২ এপ্রিলের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ বলে সনাক্ত হয়েছিলেন।