শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি (এফইটি) বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র শাফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সিট পাননি বলে সিলেট শহরের মদিনা মার্কেট এলাকায় একটি মেসে থাকেন।  এজন্য প্রতি মাসে তাকে এক হাজার ৭০০ টাকা শুধু সিট ভাড়া বাবদ দিতে হয়।

করোনাকালে ক্যাম্পাস ছুটি থাকায় গত এপ্রিলের ভাড়া পরিশোধ করলেও মে মাসের ভাড়া এখনো পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে মেস ভাড়া পরিশোধ করা তার পক্ষে যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘার মতোই অবস্থা।

শফিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ থেকেই আমি টিউশন করিয়ে নিজের এবং মেস খরচ চালাই। আমাকে যদি গতমাসের মতো এই মাসেরও মেস ভাড়া পরিশোধ করতে হয় সেটা আমার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য অনেক কষ্টের হবে। আবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন যদি সবগুলো টাকা একসাথে পরিশোধ করতে হয় তাহলে সেটা পরিবারের ওপর একরকমের নির্যাতন করা হবে।

তিনি বলেন, আমার টিউশনি বন্ধ, আবার সিলেটে ফিরেই যে টিউশন পাবো কিংবা টাকা সংগ্রহ করতে পারবো এটাও নিশ্চিত নই। অন্যদিকে করোনার কারণে পরিবারের আয়ও বন্ধ প্রায়। এখন করোনার সময়ের ভাড়া মওকুফ না করলে আমাদের চরম সংকটে পড়তে হবে।

মেসে থেকে পড়াশোনা করেন এমন ১৮-২০ জন বিভিন্ন বিভাগ ও বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই অবস্থা শুধু শফিকের একার নয়, মেসে থাকা প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। এসময় তারা করোনার সময়টুকুতে মেস ভাড়া মওকুফের দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ছাত্র হল এবং দুটি ছাত্রী হল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজার ৯২২ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের তুলনায় হলগুলোর সিট পর্যাপ্ত নয়। সেই তুলনায় সিংহভাগ শিক্ষার্থী সিলেট শহরের বিভিন্ন জায়গায় মেসে থেকে পড়াশোনা করছেন। এই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ টিউশন করিয়ে নিজের খরচ চালান। অন্যরা পরিবার থেকে পাঠানো টাকার ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য অনেক পরিবারের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে এবিষয়ে একমত প্রকাশ করে শাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মলয় সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়ে আসছেন বেশকিছু দিন ধরে। তিনি সমকালকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশির ভাগ নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের তাই এই দাবি যৌক্তিক। পাশাপাশি কিছু বাসা মালিক আছে যারা এই ভাড়ার ওপর নির্ভরশীল। এই মালিকদের ভাড়া জন্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তুকি দিবে, না হয় জেলা প্রশাসক ভর্তুকি দিবে। আর যদি শিক্ষার্থীদের দিতে হয় সেটা অবশ্যই সম্পূর্ণ ভাড়া না, এখানে ছাড় দিতে হবে। এছাড়া বাকি মালিকদের বাসাভাড়া মওকুফের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে শাবির ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদার বলেন, অনেকের আর্থিক সমস্যা আছে। এই সময়ে ভাড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর কোন ভাবেই চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। আবার যখন পরিস্থিতি ভালো হবে এবং সবাই ফিরে আসবে তখন যেন উভয়ই মালিকপক্ষ এবং শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের বাইরে আছে। অনেকেই এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদের অনেকেই টিউশন করে পড়াশোনার খরচ চালায়। তিনি মেস মালিকের প্রতি আহবান জানান, তারা যেন এসময়ে শিক্ষার্থীদের ভাড়ার বিষয়ে সহানুভূতি দেখান।