শ্মশানে লাশ দাহে বাধা, সাহায্যে মসজিদ থেকে ছুটে গেলেন মুসল্লিরা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২০   

কিশোরগঞ্জ অফিস

অমিয় দাস

অমিয় দাস

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে অমিয় দাস (৬০) নামের এক মাছ ব্যবসায়ী মারা গেছেন। গত ১৫ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। পরে শনিবার রাত তিনটার দিকে অমিয় দাসের মরদেহ পৌর শহরের পঞ্চবটি শ্মশানে সৎকারের জন্য নিয়ে যাওয়া হলে এলাকার কিছু মানুষ সৎকারে বাধা দেন। খবর পেয়ে ভোরে ফজরের নামাজের পর তার শেষকৃৎ কাজে সহযোগিতার জন্য ছুটে যান স্থানীয় মসজিদের মুসল্লিরা।

এলাকাবাসী জানায়, অমিয় দাস ভৈরব নৈশ মৎস্য আড়তের একজন জনপ্রিয়, প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী। তিনি পৌর শহরের চন্ডিবের দক্ষিণপাড়ায় বাড়ি করে থাকতেন। তিনি শিক্ষানুরাগী ও সমাজকর্মী হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার করোনাভাইরাস হয়েছে কি না- তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে তার শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। তখন চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

মৃত ব্যাক্তির স্বজনরা বলেন, শ্মশানে লাশ দাহ করার জন্য একটি মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পঞ্চবটি এলাকায় কয়েকজন লোক গাড়িটি আটকে দেন এবং দাহ করতে দেবেন না বলে বাধা দেন। তারা কঠোর অবস্থান নিয়ে গাড়িটি ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ চলছিল। নামাজ শেষে মুসল্লিরা বিষয়টি জানতে পেরে লাশ দাহে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন। 

লাশ দাহে সহযোগিতা করতে সামনের সারিতে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হকসহ আরো অনেকেই। তারা পঞ্চবটির স্থানীয় বাসিন্দা। তারা বলেন, নামাজ শেষে লাশ দাহে বাধা দেওয়ার কথা শুনে এগিয়ে যাই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাধাদানকারীরা সটকে পড়ে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, ভৈরবে এখন পর্যন্ত ৫৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু কোনো মৃত্যুর ঘটনা নেই। অমিয় দাসের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ ছিল কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তারপরও তার সৎকারপ্রক্রিয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা হয়েছে।