বগুড়ায় নিউ মার্কেটে অভিযান, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২৪ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০     আপডেট: ১৮ মে ২০২০   

বগুড়া ব্যুরো

সরকারঘোষিত সব স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে বগুড়া নিউ মার্কেট সোমবার সকাল থেকে আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনকে দেওয়া স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার সেই আশ্বাস ক্রেতা-বিক্রেতাদের কেউই শতভাগ মানতে পারছেন না। এ কারণে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কয়েকটি দোকানে জরিমানাও করেছেন। এ পরিস্থিতিতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ  আবারও নিউমার্কেট বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন ব্যবসায়ীদের।
এর আগে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর গত ১০ মে সারাদেশের মতো বগুড়ার নিউ মার্কেট খুলে দেওয়া হয়। তবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত আকারে কেনাকাটা করার জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কেউ তা না মানায় তিনদিনের মাথায় ১৩ মে দুপুরে প্রশাসনের নির্দেশে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির নের্তৃবৃন্দ গত ১৭ মে দুপুরে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কেট খুলে দেওয়ার জন্য পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত দিয়ে মার্কেট খোলার অনুমতি দেন জেলা প্রশাসক।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নিউ মার্কেটের বিভিন্ন প্রবেশ পথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ সম্বলিত ব্যানার লাগানো হয়েছে। তাতে ‘মাস্ক ও গ্লাভস ছাড়া মার্কেটে প্রবেশ নিষেধ’কথাটি লেখা রয়েছে। তবে বাস্তবে অনেকেই সেই নির্দেশনা মানছেন না। মার্কেটে প্রবেশকারীদের সিংহভাগ লোকের হাতে গ্লাভস দেখা যায়নি । কেনা-কাটা করতে আসা লোকজনকে প্রবেশপথে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রে করা হলেও দোকানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাউকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি। সব দোকানের সামনেই গাদাগাদি করে কেনাকাটা কেরতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিএম রাশেদুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নিউ মার্কেট ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেনা-বেচার প্রমাণ পেয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে ৫টি দোকান এবং ভোক্তা অধিকার আইন অমান্য করায় আরও একটিসহ মোট ৬টি দোকানে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি জানান, মার্কেটে প্রবেশের একাধিক গেট থাকায় বিপুল সংখ্যক লোক মাস্ক ছাড়াই ভেতরে লোক ঢুকে পড়ছে। তিনি বলেন, আমরা নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দকে বলেছি তারা যেন একটি গেট দিয়ে লোকজনদের প্রবেশ করান এবং আরেকটি গেট দিয়ে বের করে দেন। আর স্বাস্থ্যবিধিগুলো আরও কঠোরভাবে মেনে চলেন।
বগুড়া বৃহত্তর নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনা- বেচার জন্য তারা প্রত্যেক দোকান মালিককে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা যাতে শতভাগ নিশ্চিত করা যায় সেজন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে জানান, ব্যবসায়ীরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা করতে না পারেন তাহলে তারা আবারও নিউ মার্কেট বন্ধ করে দেবেন।
এদিকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের অভিযানের পর পরই মার্কেটের বেশ কয়েকটি প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ভিড়ও কিছুটা কমে যায়।