ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে পটুয়াখালীতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও রাস্তা ঘাট। বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জলোচ্ছ্বাসের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে জেলার অর্ধশত গ্রাম। 

আম্পানের আঘাতে মারা গেছেন দুইজন। এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় বাবা-মার সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় গাছের ডাল পড়ে জেলার গলাচিপার পানপট্টিতে রাশেদ নামে ৫ বছরের এক শিশু মারা গেছে। রাশেদ পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের শাহজাদা মিয়ার ছেলে। 

ওইদিন সকালে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা প্রচার করতে গিয়ে কলাপাড়ার লোন্দা খালে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন সিপিপির ধানখালীর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ইউনিটের দলনেতা সৈয়দ শাহ আলম (৫৪)। ৯ ঘণ্টা পর ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ডুবুরীরা। সৈয়দ শাহ আলমের বাড়ি ওই ধানখালী ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে। 

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে বেশকিছু কাচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষতি হলেও এ জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য চাষিদের। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে জেলায় অন্তত দুই শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবে মৎস্য চাষিরা।   

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জলোচ্ছ্বাসের পানি ঢুকে বেশ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যায়। এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে তা দ্রুত জেলা প্রশাসক কার্যালয়কে জানানোর জন্য সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।