মাগুরায় ঝড়ে কৃষকের সর্বনাশ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২০   

মগুরা প্রতিনিধি

ঝড়ে বিধ্বস্ত নিজের পেঁপে ক্ষেতের মাঝে এক কৃষক -সমকাল

ঝড়ে বিধ্বস্ত নিজের পেঁপে ক্ষেতের মাঝে এক কৃষক -সমকাল

মাগুরায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর রাত পর্যন্ত টানা ঝড়ের সঙ্গে ভারি বর্ষণে ঘর-বাড়ি, গাছপালা ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মাঠে থাকা লিচু, আম, পেঁপে, কলা, ধান, শবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  এতে অনেক কৃষক সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। 

জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম ও জেলা পরিষদ চেয়াম্যান পংকজ কুন্ডুর দাবি, স্মরণকালের দীর্ঘস্থায়ী এ ঝড়ে সব মিলিয়ে জেলায় ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে শত কোটি টাকা।

মাগুরা সদররের হাজরাপুর কৃষক উন্নয়ন সমিতির সদস্য কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সদর উপজেলার হাজীপুর, হাজরাপুর, রাঘবদাইড় ইউনিয়ন, আঠারখাদা, মঘি ও পৌরসভার কিছু এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২০ হাজারের উপরে লিচু, আম, কাঁঠাল, কলা, পেপে বাগান রয়েছে। যার মধ্যে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল লিচু বাগান রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। কিন্তু বুধবার সারা রাতের ঝড়ের তাণ্ডবে গোটা এলাকার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি বছর এ এলাকা থেকে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আম ও লিচু বিক্রি হয়ে থাকে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের ফসলহানীর কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক জাহিদুল আমিন বলেন, বর্তমানে জেলায়-৬০০ হেক্টর জমিতে লিচু, ১৩০০ হেক্টরে আম, ৭০০হেক্টরে কলা, ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে, ৬২০ হেক্টরে কাঠার, ২০০ হেক্টর জমিতে নালিম,৭২০ হেক্টর মুগডাল, ২৭২০ হেক্টরে বিভিন্ন সবজি, ২৮২০ হেক্টরে তিল এবং ৩৫ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। তবে এসকল ফসলের মধ্যে প্রায় শত ভাগ পেঁপে, কলা ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। 

আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বলে জানান জাহিদুল আমিন।

জেলা প্রশাসক ড. আশাফুল আলম ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পংকজ কুন্ডু বলেন, ‘স্মরণকালে দীর্ঘস্থায়ী এ ঝড়ে শত-শত কাঁচা, আধাপাকা বাড়িঘর, গাছপালা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল হাজারপুরী লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পেঁপে, কলা, আম, সবজীসহ মাঠে থাকা ফসলের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। জেলায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান কমপক্ষে শত কোটি টাকা।