বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনে সোঁনারগাও টেক্সটাইলের শ্রমিকরা

প্রকাশ: ২২ মে ২০২০   

বরিশাল ব্যুরো

শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী। ছবি: সমকাল

শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী। ছবি: সমকাল

বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বরিশাল নগরীর সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের শ্রমিকরা। বন্ধ থাকা এ মিলের প্রায় ৫০০ শ্রমিক-কর্মকর্তা কর্মচারী গত এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পাননি বলে জানিয়েছেন। 

এ বেতন-বোনাসের দাবিতে শনিবার নগরীর রূপাতলীতে টেক্সটাইল মিলের সামনে মানববন্ধন করবেন তারা। শুক্রবার নগরীতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কার্যালয় চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়। 

বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন টেক্সটাইল মিলের সময়রক্ষক মো. ফরহাদ হোসেন। এ সময় জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী দ্রুত শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে মালিক পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।  

শ্রমিকরা বলেন, গত ৫ এপ্রিল সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল লে-অফ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ওই সময় শ্রমিকদের দাবির মুখে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। উল্টো বেতন চাওয়া হলে চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। 

শ্রমিকরা আরও বলেন, বেতন পরিশোধের জন্য তাদের পক্ষ থেকে শ্রম আদালত ও বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড় শনিবার সকাল ১০টায় টেক্সটাইল মিলের গেটে মানববন্ধন করবেন তারা। 

এ বিষয়ে সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের প্রকল্প পরিচালক সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'আন্দোলন ছাড়াই মার্চ মাস পর্যন্ত বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। নেতা নামধারী গুটিকয়েক শ্রমিক মালিকপক্ষের কাছ থেকে অন্যরকম সুবিধা চেয়েছিলেন। সেটা না পেয়ে তারা মিথ্যা রটাচ্ছেন।' 

মিল মালিকের বক্তব্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, 'ঈদের পর মিলে আবার উৎপাদন শুরু হবে। তখন সবার বকেয়া পরিশোধ করা হবে।' 

বরিশালের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান খানসন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল। বরিশাল নগরীর প্রবেশমুখ রূপাতলীতে কুয়াকাটা-বরিশাল সড়কে মিলটির অবস্থান। এ ,মিলে ৪৫০ জন শ্রমিক ও ৯৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত কাজ করেন। করোনা সংকটে সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলে গত ২৬ মার্চ মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ৫ এপ্রিল প্রতিষ্ঠান লে-অফ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।