উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সাংসদ ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক কামরুন্নাহার পুতুল করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ছিলেন।

বগুড়া সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু শুক্রবার সমকালকে এতথ্য জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, শুক্রবার পাওয়া নমুনা রিপোর্টে দেখা গেছে সদ্য প্রয়াত কামরুন্নাহার পুতুল এবং তার ছেলে, ছেলের স্ত্রী এবং তার বাড়ির কেয়ারটেকারও করোনায় আক্রান্ত।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সাংসদ কামরুন্নাহার পুতুলের মৃত্যুর পর পরই তার বাড়িটিকে লকডাউন এবং সব সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন বড় ছেলে রাহিদ মোস্তাফিজকে দেখার জন্য ৬৫ বছর বয়সী সাবেক সাংসদ কামরুন্নাহার পুতুল কয়েকদিন আগে ঢাকায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তিনি আরও জানান, জ্বর, পাতলা পায়খানা এবং খাবারে অরুচিজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় ১৯ মে তারসহ পরিবারের ৪ সদসস্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে রিপোর্ট আসার আগেই ২১ মে বৃহস্পতিবার রাতে তার অবস্থার অবণতি হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার বাদ জুমা স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে বগুড়া নামাজগড় গোরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কামরুন্নাহার পুতুল তৎকালীন বগুড়া-জয়পুরহাট জেলার সংরক্ষিত নারী আসনে সাংসদ মনোনীত হন। তার স্বামী মোস্তাফিজার রহমান পটল ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বগুড়ার গাবতলী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রূপালী ব্যাংকের সাবেক এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের যোগদানের পর দলটির বগুড়া জেলা কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছিলেন।