পদ্মা সেতুর ৩০ তম স্প্যান বসবে ৩০ মে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০   

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদের পর পরই আগামী ৩০ মে বসছে পদ্মা সেতুর ৩০ তম স্প্যান। তাই করোনা পরিস্থিতি ও ঈদের ছুটির মধ্যেও থেমে নেই কর্মযজ্ঞ, এগিয়ে চলছে সেতুর কাজ। আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলেই চলতি মাসের শেষের দিকে ৩০ মে জাজিরা প্রান্তের ২৬ ও ২৭ নম্বর খুঁটির (পিয়ার) উপর বসানো হবে ‘৫বি’ নামের ৩০ তম স্প্যানটি। ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের ধূসর রঙের এ স্প্যানটি খুঁটির ওপর বসানো হয়ে গেলে সেতুর মূল অবকাঠামো দৈর্ঘ্যে ৪৫০০ মিটার দৃশ্যমান হয়ে পদ্মা বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াঁবে বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, প্রকল্পের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা এখন ৩০তম স্প্যান বসানোর কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ইতিমধ্যে স্প্যানটির চূড়ান্ত রঙের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আনুষঙ্গিক কিছু কাজ করা হচ্ছে। এরপরই স্প্যানটি শনিবার (৩০ মে)  বসানোর লক্ষ্যে ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ "তিয়ান-ই" স্প্যানটি মাওয়া প্রান্তের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টক জেটি থেকে জাজিরা প্রান্তে খুঁটির কাছে নোঙর করবে। 

এ দিকে, ৩১ তম স্প্যানটি চূড়ান্ত রঙের কাজ চলমান রয়েছে, যা ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটির  (পিয়ার) উপর বসানো হবে। যার সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ জুন। ৩০ ও ৩১তম এই দুইটি স্প্যান বর্ষা মৌসুমের আগে বসানো সম্ভব হলে জাজিরা প্রান্তের সব স্প্যান বসানো শেষ হবে যাবে। 

পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের জানান, অস্বাভাবিক ও দুর্যোগকালীন সময়েও প্রকল্পের পরামর্শক, ঠিকাদার, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, নির্মাণ শ্রমিক ও ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

চলতি মাসের মাসের শেষ দিকে (সম্ভাব্য দিনক্ষণ ৩০ মে) জাজিরা প্রান্তের ২৬ ও ২৭ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হবে ৩০ তম স্প্যানটি। ইতোমধ্যে স্প্যানটির রঙের কাজ শেষ হওয়ায় বর্তমানে হ্যান্ড রেল, স্টেয়ার, ব্যালান্স লোড স্থাপনের কাজ চলছে। 

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পদ্মা সেতুতে ২৯টি স্প্যান স্থাপনে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়েছে ৪ হাজার ৩৫০ মিটার। 

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) এবং নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। আগামী বছরের মাঝামাঝি পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা কিছুটা এ দিক সেদিক হতে পারে।