নূপুর ও মেহেদী দেওয়ার প্রলোভনে মুরাদনগরে ২ মেয়েকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ বাবা ও সৎ মাকে গ্রেপ্তার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সুমন মিয়া (৪১) নবীপুর গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে ও রুনা বেগম (২৬) সুমন মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈদ উপলক্ষে পায়ের নূপুর ও মেহেদী দেওয়ার কথা বলে স্বর্ণা আক্তার (১১) ও ফারিয়া আক্তারকে (৫) ডেকে নেয় তাদের সৎ মা রুনা বেগম (২৫)। ইফতারের পরও তারা বাড়িতে না আসায় তাদের মা সোনিয়া বেগম সতিন রুনা বেগমের বাড়িতে যায়। তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় তারা অনেক অগেই চলে গেছে। ওই সময় সতিন রুনা বেগমের শরীরের কাপড়  ভেজা দেখে সন্দেহ হয়। পরে বিভিন্ন পুকুরে খোঁজা খুঁজির পর একটি ডোবায় জুতা জোড়া ভাসতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তখন এলাকাবাসী ওই ডোবাতে নেমে তাদের উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই বোনকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি সন্দেহ হলে এলাকাবাসী ঘটনাটি পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে দুই শিশুর বাবা সুমন মিয়া ও সৎ মা রুনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে যায়।

দুই শিশুর মা সোনিয়া বেগম বলেন, '৩ বছর আগে আমার অজান্তে রুনা বেগমকে বিয়ে করে বাতেন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকে সুমন মিয়া। তারপর থেকে আমার ও আমার সন্তানদের কোনো প্রকার খোঁজ খবর নেয় না সে। আমি আমার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে মুরগির ফার্ম দিয়ে সাংসার চালাই। মেয়ে স্বর্ণা ও ফারিয়াকে আমার মা ঢাকাতে নিয়ে স্কুলে ভর্তি করায়। লকডাউনের কারণে স্কুল ছুটি দেওয়ায় মেয়ে দুটি আমার কাছে চলে আসে। আসার পর থেকেই মেয়েগুলোর পেছনে লাগে রুনা বেগম। আমি আমার মতো করে থাকলেও আমার সতিন রুনা বেগম আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মেরে ফেলার পাঁয়তারা করে।'

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুমন মিয়ার সাথে বিয়ের আগে রুনা বেগমের আরও ৪টি বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী মিলে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। শক্ত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যায় তারা। 

মুরাদনগর থানার ওসি একেএম মনজুর আলম বলেন, প্রাথমিক সুরতহালে দুজনেরই থুতনির নিচে আঘাতের চি‎হ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সৎ মা ও বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।