লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়নের দুর্গম গ্রাম ফরাশগঞ্জে আলো ছড়াচ্ছে ‘আলোকিত স্কুল’। গত দুই মাস ধরে করোনার ছোবলে সব থমকে গেছে। বাচ্চাদের কোলাহল নেই স্কুল আঙ্গিনায়। কিন্তু বাড়িতে কেমন আছে নিম্নবিত্ত, নদীভাঙ্গা আর হতদরিদ্র ঘরের এসব শিশু? সে খবর নিতে গ্রামে বেরিয়ে পড়েন আলোকিত স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আরিফ চৌধুরী শুভ। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর গত ২৩ মার্চ গ্রামে ছুটে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী। ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর বাড়ি বাড়ি ঘুুরে খোঁজ নেন, ভাত রান্না হয়েছে কি না। ঘরে চাল আছে না কি না। গ্রামের মানুষরে সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এই যুবককে দেখে এগিয়ে আসেন মানুষ। করোনাকালে ভাতের কষ্টের কথা তুলে ধরেন সবাই। আরিফ চৌধুরী দেখেন অনেকের ঘরে নেই একটা চালও, রান্না ঘরে পড়ে আছে ভাতের শূন্য হাড়ি। 

আরিফ শুভ তার দল পুরো গ্রাম ঘুরে ঘুরে অভুক্ত পরিবারগুলোর বাস্তবচিত্র তুলে ধরেছেন নিজের ফেসবুকে। সরকার ও বিত্তবানদের কাছে দ্রুত ত্রাণ সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় পরিবারগুলোর জন্য। তার একাধিক পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হলে এগিয়ে আসেন অনেকেই। নানা নিয়মকানুনের কারণে সরকারি সব দপ্তরে যোগাযোগ করে ত্রাণ সহায়তা না পেলেও, পরবর্তীতে অবশ্য আলোকিত স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান।

ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই এগিয়ে আসেন আরিফের পাশে। স্কুলের বাচ্চাদের খাবার কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকার বেশি সহায়তা পেয়েছেন তিনি। বাসা ভাড়া না দিয়ে নিজের ২ মাসের টিউশানির জমানো ১২ হাজার টাকাও দিয়ে দিলেন। পরবর্তীতে নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে ২ টন চাল কিনে রমজানের আগেই বিতরণ করেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী ২৫, ২০, ১৫ এবং ১০ কেজি করে চাল দিলেন ২ শতাধিক পরিবারকে। যাদের বেশিরভাগের রমজানের খাবার শুধু এই ২৫ কেজি চাল! যদিও রমজানের শুরুতে ফরাশগঞ্জ গ্রামে কিছু সরকারি ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। কিন্তু পুরো গ্রামে যে সংখ্যক নিম্মবিত্ত পরিবারের বাস, সে তুলনায় সরকারি ত্রাণ যথেষ্ট নয়। 

অসহায় মানুষের হাতে সময়মত ত্রাণ সহায়তা দিতে পেরে খুশি আরিফ শুভ ও তার আলোকিত পাঠাগারের স্বেচ্ছাসেবী দল। আরিফ বলেন, আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা শুধু চাল দিয়েছি, কারণ ঘরে চাল থাকলে অন্তত ফেনে ভাত রান্না করেও খেয়ে দিন পার করতে পারবে। পুরো ইউনিয়নের মধ্যে আমরা অর্ধশতাধিক ভিক্ষুককে খুঁজে বের করেছি, যারা এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাননি। ভিক্ষুকদের তালিকা প্রশাসনের নজরে আনলে এডিসি জেনারেল তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ২০ জন ভিক্ষুককে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। 

শুরুর দিকে শুধু চাল সহায়তা দেওয়া হলেও ঈদের আগের দিন রোববার আরিফ শুভ গ্রামের মানুষর মাঝে ঈদসামগ্রীও বিতরণ করেন।