গোপালগঞ্জে সীমা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূ ‘সুইসাইট নোট’ লিখে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে তিনি মানসিক অত্যাচারের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সুইসাইট নোটে ওই গৃহবধূ তার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে মা-বাবা, ভাই-বোনদের অনুরোধ করেছেন।

এছাড়া তার ১৪ মাসের শিশু সন্তানকে দেখে রাখার জন্য মা-বাবার প্রতি অনুরোধ করেছেন। গত শুক্রবার গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

সীমা বেগম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরমানিকদহ গ্রামের চুন্নু মিয়ার মেয়ে। দু’বছর আগে শহরের মৌলভীপাড়ার মো. মুজিবুরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার শরীরে লুকিয়ে রাখা সুইসাইট নোট উদ্ধার করেন।

ওই নোটে লেখা ছিল, বিয়ের পর স্বামীর সংসারে এসে মানসিক অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন তিনি। তাকে কেউ ভালবাসে না। অত্যাচারের মাত্রা তার সহ্যর বাইরে চলে গিয়েছিল। তার স্বামীরও কিছু করার নেই। তাই তিনি আত্মহত্যা করছেন।

গোপালগঞ্জে সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ওই গৃহবধূর লাশ ও সুইসাইট নোট উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ভাসুরের মানসিক নির্যাতনে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত ভাসুর রবিউল ইসলাম জানান, বিষয়টি সীমার মা-বাবার সঙ্গে বসে মীমাংসা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যেন সংবাদ প্রকাশ না হয়। তবে ওই গৃহবধূর পিতা চুন্নু মিয়া বলেন, তার মেয়েকে কে অত্যাচার করেছে সেটা ফোনে বলা যাবে না। সরাসরি সাংবাদিকদের বলতে চান। এরপর থেকেই বন্ধ পাওয়া গেছে তার ফোন।