ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ১২ হাজার ৩৫৮টি গাছপালা ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বন বিভাগের অবকাঠামোর প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন বিভাগের গঠন করা ৪টি কমিটি রোববার বিকেলে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষকের নিকট এই প্রতিবেদন দাখিল করে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১২ হাজার ৩৩২টি গাছ ভেঙে গেছে। ভেঙে যাওয়া গাছের মধ্যে গরান গাছের সংখ্যা বেশি। যার মূল্য ১০ লাখ ১০ হাজার ৫৬০ টাকা। এ ছাড়া স্থাপনা, জেটি, উডেন ট্রেইল, ওয়াচ টাওয়ার ও অবকাঠামোর ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বাঘ, হরিণসহ অন্য কোনো বন্য প্রাণীর ক্ষতি হয়নি।

তিনি জানান, সুন্দরবন থেকে সব ধরণের গাছ কাটা নিষিদ্ধ। সে কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই রাখা হবে। কোনো গাছ কাটা হবে না। সুন্দরবন সময়ের সাথে সাথে তার নিজের ক্ষতি নিজেই পুষিয়ে নিতে পারবে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে মাত্র ২৬টি গাছ ভেঙে গেছে। তবে তাদের জব্দ করা অনেক কাঠ নদীর পানিতে ভেসে গেছে। এ দুটি ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ৬ হাজার ৮৩০ টাকা। এ ছাড়া অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৭ হাজার টাকার।

গত ২০ মে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। পরদিন ২১ মে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জন্য খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক ৪টি রেঞ্জে ৪টি কমিটি গঠন করে দেয়।

এর আগে গত বছর ১০ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের ৪ হাজার ৫৮৯টি গাছ ভেঙে যায়। এ ছাড়া বন বিভাগের ৬২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অবকাঠামো ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।