ঈদ এলো ওদের ঘরে

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২০   

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ছবি: সমকাল

ছবি: সমকাল

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মাত্র পঁচিশ দিন আগে আড়াই বছরের সামিয়া ও ৫ বছরের লামিয়া বাবা হারিয়েছে। দিন মজুর বাবা কিছুই রেখে যেতে পারেননি ঋণের বোঝা ছাড়া। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে জীবনের অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাওয়া পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। ঈদসামগ্রী ও শিশুশের জন্য নতুন জামা উপহার দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের জলিল মিয়া ভাটি অঞ্চলে বছর ভিত্তিতে কামলার কাজ করতেন। গত তিন মাস পূর্বে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর পঞ্চম রমজানের দিন চার মেয়ে রেখে মৃত্যু হয় জলিলের। ওই অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চিত জীবন শুরু হয়েছে হাসনা বেগমের। অকালে স্বামী হারিয়ে বিধবা হওয়া হাসনা নিজের চার মেয়েকে নিয়ে কী ভাবে জীবন চালাবেন তা জানেন না। কাল ঈদ হলেও হাসনার ঘরে একটু সেমাই যায়নি। অসহায় পরিবারটির খবর পেয়ে রোববার দুপুরে সেখানে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন। ওই সময় সাথে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল মতিন। পরিবারটির জন্য সেমাই, চিনি ও আনুষাঙ্গিক সামগ্রী প্রদানের পাশাপাশি বিধবা হাসনা বেগমের জন্য নতুন শাড়ি, ছোট দুই মেয়ের জন্য নতুন জামা প্রদান করেন ইউএনও।

পৌরসভার দত্তপাড়া (আদালতের পেছনে) ভাড়া বাসায় বসবাস করেন শুক্কুর মাহমুদ (৫৬)। পেশায় রাজমিস্ত্রি শুক্কুর মাহমুদ নিজের ভিটে হারিয়ে এখন ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। স্ত্রী, কন্যা ও এক ছেলেকে টেনেটুনে সংসার চলছিলো তাদের। কিন্তু গত কিছুদিন আগে শুক্কুর মাহমুদের টনসিলের অপারেশনের পর শরীরে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যন্সার ধরা পড়ে। ওই অবস্থায় পরিবারটিতে নেমে আসে অভাবের খড়গ। অসহায় পরিবারটির ঘরে ঈদের কোনো প্রস্তুতি নেই- সমকাল সুহৃদ সমাবেশের উপজেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল হকের মাধ্যমে পরিবারটির খবর পায় প্রশাসন। রোববার দুপুরে আচমকা ঈদের খাদ্যসামগ্রী ও শুক্কুর মাহমুদের স্ত্রী কুলসুম বেগমের জন্য নতুন শাড়ি নিয়ে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন।

হাসনা বেগম বলেন, স্বামী হরিয়ে চার মেয়েকে নিয়ে অশ্চিত জীবন শুরু হয়েছে। ঈদে অন্যদের ঘরে আনন্দ থাকলেও তার ঘরে অবুঝ শিশুদের জন্য কিছুই কেনার সামর্থ্য ছিলো না। একটু সেমাই রান্না করে বাচ্চাদের খাওয়াবেন সেই পথও পাচ্ছিলেন না। কিন্তু তার ঘরে এসে সেমাই দেবার পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য নতুন জামাও উপহার দিয়েছে প্রশাসন।’

শুক্কুর মাহমুদের স্ত্রী কুলসুম বেগম বলেন, স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর চরম কষ্টে তাদের দিন কাটছে। সরকারি ভাবে তাদের জন্য খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ করার জন্য জিনিসপত্র এবং কাপড় দেওয়া হয়েছে। এমনটি কখনও কল্পনাও করতে পারেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, দুরারোগ্য ব্যাধিতে দু’টি পরিবার চরম অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে। অসহায় দু’টি পরিবারের খবর পেয়ে তারা যেনো ভালো ভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।