পরকীয়ার জেরে হত্যা, ৩ মাস পর স্বামীর লাশ উদ্ধার

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২০     আপডেট: ২৭ মে ২০২০   

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

ছবি: সমকাল

ছবি: সমকাল

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ডের ৩ মাস পর মাটি চাপা দেয়া স্বামীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের তালপুকুরিয়া গ্রামের একটি মাছের ঘেরের পাড় থেকে পুলিশ ওই লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনার পুলিশ স্ত্রীসহ ৪ জনকে আটক করেছে।

উদ্ধারকৃত লাশটি তালপুকুরিয়া গ্রামের কেনারাম বাড়ৈর ছেলে কমলেশ বাড়ৈর (৪২)। তিনি কাঠ মিস্ত্রির কাজ করতেন।

কমলেশ বাড়ৈর ভাই রবেণ বাড়ৈ জানান, কমলেশের স্ত্রী সুবর্ণা বাড়ৈর সঙ্গে প্রতিবেশী মাছের ঘের ব্যবসায়ী মম্মথ বাড়ৈর পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝড়গা ও মনোমালিন্য চলছিল। এ ঘটনায় এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হয়। কিন্তু এতেও কোন কাজ হয়নি। পরে সুবর্ণা পরকীয়া প্রেমিক দিয়ে কমলেশকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কমলেশকে তারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরের দিন থেকে কমলেশ নিখোঁজ ছিলো। কমলেশের নিখোঁজের ঘটনায় তিনি গত ৩ মার্চ কোটালীপাড়া থানায় একটি জিডি করেন। জিডির সূত্র ধরে পুলিশ তদন্তে নামে। গ্রামের বিভিন্ন জনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে মঙ্গলবার মম্মথর মাছের ঘেরপাড়ে গ্রামের একটি লোক ঘাস কাটতে গিয়ে মাটি খোঁড়া দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে কমলেশের লাশ উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, সুবর্ণা পরকিয়া প্রেমিক মম্মথর সহযোগিতায় কমলেশকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ঘেরপাড়ে মাটি চাপা দিয়ে রাখে। তিনি  দোষীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত  কমলেশের স্ত্রী সুবর্ণা বাড়ৈ, সুবর্ণার পরকীয়া প্রেমিক মম্মথ বাড়ৈর ভাই কৃষ্ণ বাড়ৈ, সহযোগী বিষ্ণু বাড়ৈ ও মম্মথর বন্ধু কালু বাড়ৈকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

ওসি জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের পর কমলেশের স্ত্রী সুবর্ণা কমলেশের লাশ শনাক্ত করেন। উদ্ধারকৃত লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ ওই গ্রামে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।