সরকারি গুদামের চাল বিক্রি: গুদাম কর্মকর্তাসহ ৩ জনকে দুদকে সোপর্দ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০   

বগুড়া ব্যুরো

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বগুড়ার গাবতলীতে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে ১৫ মেট্রিকটন চাল গোপনে বিক্রিকালে পুলিশের হাতে আটক গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামসহ তিনজনকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে তুলে দেওয়া হয়। দুদক তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

গ্রেপ্তার অপর ২ জন হলেন- গুদামের নৈশপ্রহরী সাদেকুল ইসলাম ও চালের ক্রেতা ধুনট উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেন শাহীন। 

এদিকে ঘটনা তদন্তে জেলা খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এফ এম সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তারা তদন্ত শুরু করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাবতলী থানার ওসি নুরুজ্জামান বলেন, 'উপজেলার সাবেকপাড়া সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে এক ব্যবসায়ীর কাছে চাল বিক্রি করা হয়েছে এবং চালগুলো ট্রাকে তোলা হচ্ছে- এমন খবর পাওয়ার পর শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ওই গুদাম থেকে ৫০ কেজি ওজনের ৩০০ বস্তা (১৫ মেট্রিকটন) চাল একটি ট্রাকে তোলা হয়েছে। এ সময় সরকারি চাল বিক্রির খবরে স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে গুদাম কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের ওপর মারমুখি হয়ে উঠে। এ সময় শফিকুল ইসলাম, চাল ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন শাহীন ও গুদামের নৈশপ্রহরী সাদেকুল ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একটি ডায়েরি করা হয়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শে তাদের দুদকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।'

ওসি নুরুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ধুনটের চাল ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন শাহীনের কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে ওই চাল বিক্রি করেন। ওই চাল সরকারি অন্য কোনো গুদামে সরকারের বেঁধে দেওয়া ৩৬ টাকা কেজি দরে সরবরাহের কথা ছিল শাহীনের। অবৈধভাবে বিক্রি করা চালগুলো পরবর্তীতে হয়তো কাগজে-কলমে নষ্ট হিসেবে দেখানো হতো।

গাবতলী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুনুর রশিদ বলেন, 'সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিদের্শে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আপাতত ওই তিনজনকে দুদকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।'

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এফ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, 'অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সেখানে গাবতলী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে পাঠানো এবং ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত থাকতে পারেন বলে জানান তিনি।

দুনীর্তি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, 'অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'