এভাবেই প্রতিদিন ৩ কি.মি. পথ পারি দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করত আজহারুল

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০   

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

এভাবেই প্রতিদিন হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করত আজহারুল -সমকাল

এভাবেই প্রতিদিন হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করত আজহারুল -সমকাল

জন্ম থেকেই দুই পা উল্টো, সরু ও -বাঁকা। তবুও স্বপ্ন জয়ে বিভোর। শত বাধা উপেক্ষা করে হামাগুঁড়ি দিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এসএসসি পাস করল আজহারুল। সে বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ২.৮৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

আজহারুলের এই সাফল্য হতবাক করেছে অনেককে। তবে আরো ভালো ফলাফল করার ইচ্ছে ছিলো আজহারুলের। এখন সে স্বপ্ন দেখছে ভালো কলেজে লেখাপড়া করে সরকারি চাকরি করার। 

আজহারুলের বাড়ি নেত্রকোনার মদন উপজেলার বনতিয়শ্রী গ্রামে। তারা তিন ভাই, তিন বোন। ভাই বোনদের মধ্যে পাঁচ নম্বর আজহারুল। অভাবের সংসারে প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়া আজহারুলকে ছোটবেলা থেকেই হোঁচট খেয়ে বড় হতে হয়েছে। তার দুই হাতও বাঁকা। এরপরও দুই হাতের ওপর ভর করে স্বপ্ন জয়ের পথে এগিয়ে চলছে আজহারুল ইসলাম। অদম্য ইচ্ছা আর স্বপ্ন জয়ের দারুণ আগ্রহ রয়েছে তার। এ জন্য বাড়ি থেকে প্রতিদিন তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসত আজহারুল। বাবা মনির উদ্দিনের ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। তার বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান।

তার পারিবার জানায়, পাঁচ বছর ধরে দুই হাতে ভর করে হামাগুঁড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসত-যেত আজহারুল। যদি অটো কিংবা রিকশা দিয়ে আসতে হয় তাহলে প্রতিদিন খরচ হয় ৫০ টাকা। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। তাই হামাগুড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে  নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করত আজহারুল। সে প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২ দশমিক ৮৩ জিপিএ পেয়ে কৃতকার্য হয়। জেএসসিতে পায় ২ দশমিক ৫৫।

আজহারুল ইসলাম বলে, লেখাপড়া শিখে আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী হতে চাই। এ জন্য প্রতিদিন স্বপ্ন দেখছি বড় হওয়ার। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে ভাল একটি কলেজে ভর্তি হতে পারবো। 

আজহারুল আরো বলে, আমি প্রতিবন্ধী হলেও সবার সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে পারি। আমি ক্রিকেট খেলার সুযোগ চাই।

আজহারুলের বাবা মনির উদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা গরীব মানুষ, তাকে পড়া লেখা করাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আমরা এমনিতেই চলতে পারছি না। আমার ভিটাবাড়ি ছাড়া কোন কিছু নেই,আমার একটি ভাল ঘরও নেই। কিভাবে আমার তার পড়াশোনার খরচ বহন করব। সরকারি সহযোগিতা পেলে তাকে পড়াশোনা করাতে পারব।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, আজহারুল পাস করায় আমরা খুবই খুশি। আজহারুল একজন মেধাবী ছাত্র, আর্থিক সমস্যার কারণে ওকে প্রতিদিন হামাগুঁড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা পারি দিয়ে আসতে হয়েছে। আমি চাই বিত্তবানরা যেন ওকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন।

উপজেলা নির্বাহী  মোঃ ওয়ালীউল হাসান বলেন, আজহারুল এসএসসি পাস করেছে শুনে খুবই খুশি হলাম। তাকে সরকারি সহযোগীতা দেওয়া হয়েছিল। আরো দেওয়া হবে। আমরা তার পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি। পড়াশোনার খরচের সমস্যা হলে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা করবে।