সিরাজগঞ্জের দু’টি মহাসড়কে উচ্চ আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও প্রাণহানির ঘটনায় হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইয়রুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার করার পর হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে তাকে সংযুক্ত করা হয়।

হাইওয়ে পুলিশ সুপার, বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বুধবার সকালে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রত্যাহারের বিষয়টি পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ বুধবার নিশ্চিত করেন।

এদিকে, প্রত্যাহারকৃত ওসির বিপরীতে স্থলাভিষক্ত হচ্ছেন পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. নুরুন্নবী।

প্রসঙ্গত, চলমান করোনায় উৎকোচ নিয়ে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে অনৈতিকভাবে যাত্রী পারাপারে সুযোগ প্রদান এবং অবৈধ থ্রি-হুইলার, কাটা-মাইক্রো, নসিমন ও করিমনসহ পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী চলাচলের বিপরীতে অবৈধ চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে ওসি খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এমনকি, স্থানীয় একটি দালাল চক্রের সিন্ডিকেট হাটিকুমরুল মোড়ে প্রতিদিনই পরিবহনে ব্যাপক চাঁদাবাজি করলেও অজ্ঞাত কারণেই এড়িয়ে চলতেন ওসি খায়রুল ইসলাম। এসব নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ যায় উর্ধ্বতন বরাবর।

মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে শাহজাদপুর উপজেলার সরিষাকোল নামক স্থানে পাবনা থেকে ঢাকাগামী সরকার ট্রাভেলস-এর ধাক্কায় অবৈধভাবে চলাচলরত একটি সিএনজি চালিত থ্রি-হাইলার চাপা খায়। এতে বাবা-মা ও মেয়েসহ তিনজন অকালে প্রাণ হারান। বেশ ক’টি গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশ হলে টনক নড়ে হাইওয়ে পুলিশের উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের। অবশেষে ওই ঘটনায় হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি খাইয়রুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত প্রত্যাহারকৃত ওসি খাইয়রুল ইসলাম হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় অবস্থান করছিলেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, ‘প্রত্যাহার করার বিষয় জানলেও সঠিক কারনটি অবগত নই।’

পুলিশের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘জনস্বার্থে ও উর্ধ্বতনদের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’