শ্রমিক বাবার স্বপ্ন পূরণে এহসানের বাধা দারিদ্র্য

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২০     আপডেট: ০৫ জুন ২০২০   

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

এহসানুল হক- সমকাল

এহসানুল হক- সমকাল

আজিজুল ইসলাম দীর্ঘ ১০ বছর ধরে টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। যা বেতন পান তা নিয়ে নিজে বাসা ভাড়া দিয়ে খেয়ে নিজের স্ত্রী সন্তানের জন্যও বাড়িতে টাকা পাঠান। বাবার কষ্টের মান রেখেছে ছেলে এহসানুল হক। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তবে এহসানকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্নে বাঁধা দারিদ্র্য। মেধাবী এহসানের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।

উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের দত্তগ্রাম গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে এহসানুল হক। সে এবার কুমারুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

এহসানের বাবা আজিজুল নরসিংদীর একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মা রিনা বেগম বাড়িতে থাকেন ছেলেকে নিয়ে। মেধাবী এহসান জেএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল একই বিদ্যালয় থেকে। জেএসসিতে ভালো ফলাফল করায় বাবার ইচ্ছাতেই বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়া শুরু করে এহসান। অর্থাভাবে ঠিক মতো প্রাইভেট পড়তে না পারলেও ভালো ফলাফল করেছে এহসান। তার এই ফলাফলে বাবা-মা খুশি হলেও তার উচ্চ শিক্ষা নিয়ে পরিবারটি শঙ্কিত। বাবার স্বপ্ন ছেলেকে ডাক্তার বানাবে। প্রত্যন্ত গ্রামটিতে চিকিৎসার অভাবে অনেক মানুষকে ধুঁকতে হয়। তাই ছেলেকে চিকিৎসক বানিয়ে গ্রামের মানুষের সেবা করাবে।

এহসানুল হক জানায়, বাবার ইচ্ছা বাস্তবে রূপ দিতে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজের পড়ালেখা চালিয়ে যায় সে। যার ফলশ্রুতিতে তার জিপিএ-৫ অর্জন। এখন একটি ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করে মেডিকেলে চান্স পাওয়াই তার লক্ষ্য।

আজিজুল ইসলাম বলেন, অনেক কষ্টে সংসার ও নিজের ছেলের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখছেন। অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবুও চেষ্টা করবেন শেষ পর্যন্ত।