পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের শেষ স্প্যান বসবে ১১ জুন

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২০   

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

খুঁটির ওপর বসানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত স্প্যানটি -সমকাল

খুঁটির ওপর বসানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত স্প্যানটি -সমকাল

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের শেষ স্প্যান ও মূল সেতুর ৩১ তম স্প্যান চূড়ান্ত রঙের কাজ শেষে এখন খুঁটির ওপর স্থাপনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। আগামী ১১ জুন জাজিরা প্রান্তের ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটির ওপর স্প্যানটি বসানো হবে। তাই স্প্যানটিকে বহন করে খুঁটির কাছে নিয়ে যেতে শক্তিশালী ক্রেনবাহী জাহাজ ‘তিয়ান-ই’ মাওয়া প্রান্তের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টক জেটিতে অবস্থান করছে। স্প্যানটি বসানো হলে জাজিরা প্রান্তে সকল স্প্যান বসানো শেষ হয়ে যাবে। শুধু মাওয়া প্রান্তে বাকি থাকবে ১০টি স্প্যান স্থাপনের কাজ। 

সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের। তিনি জানান, ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটি দু’টি বিদ্যমান শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ী নৌরুটের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। তাই আগামী ১১ জুন খুঁটির ওপর স্প্যান বসানোর কার্যক্রম চালানোর সময় নৌরুটে চলাচলরত ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোটসহ সকল নৌযান সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের ৩১ তম স্প্যানটি খুঁটির ওপর বসানোর পর সেতুর মূল অবকাঠামো দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৬৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। বর্তমানে স্প্যানটির হ্যান্ড-রেল, স্টেয়ার, ব্যালান্স লোডসহ আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। আগামী ১০ জুন মাওয়া প্রান্তের স্টক জেটি থেকে ক্রেনবাহী জাহাজ ‘তিয়ান-ই’ বহন করে ২৩ ও ২৪ নম্বর খুঁটির কাছে নিয়ে গিয়ে নোঙর করবে। পরদিন ১১ জুন স্প্যানটি ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর খুঁটিগুলো বিদ্যমান শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি চ্যানেলের মাঝে অবস্থিত। এর মধ্যে গত ৩০ মে বসানো হয়েছে ৩০ তম স্প্যান। আর আগামী ১১ জুন বসানো হবে ৩১তম স্প্যান। ফলে জাজিরা প্রান্তের সকল স্প্যান বর্ষা মৌসুমের আগেই খুঁটির ওপর বসানো শেষ হয়ে যাবে। শুধু মাওয়া প্রান্তে বাকি থাকবে ১০টি স্প্যান স্থাপন করার কাজ। মাওয়া প্রান্ত দিয়ে মূল পদ্মা নদী প্রবাহিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে স্রোতের সঙ্গে পলিমাটি জমে চর পড়ার আশঙ্কা থাকে। তারপরও বর্ষাকালীন বা পরবর্তী সময়ে দ্রুত খুঁটির ওপর স্থাপন বসানো সম্ভব হবে।