নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কামাল হোসেন নামে এক ব্যাংকারের বাড়িতে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছেন স্থানীয় চরবাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সামচ্ছুজ্জামান নিজাম। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চরবাটায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সুবর্ণচর শাখার সভাপতি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ব্যাংকার কামাল হোসেনের চার শতক জায়গা ব্যবহার করে আসছেন পাশের জামাল উদ্দিন। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে ঝগড়া লেগে ছিল। শুক্রবার বিকেলে ওই জায়গা নিয়ে পুনরায় জামালের স্ত্রীর সঙ্গে ব্যাংকারের স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জামাল তার আত্মীয় স্থানীয় চরবাটা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সামচ্ছুজ্জামান নিজামকে বিষয়টি জানান। এ সময় তিনি ব্যাংকারের স্ত্রীকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় ফোনে গালি দেন। পরে ব্যাংকারের স্ত্রী তাকে কেন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে বিষয়টি জানতে স্থানীয় কাজল মার্কেট এলাকায় দেখা করেন। এ সময় তিনি উল্টো ব্যাংকারের স্ত্রী ও তার ছেলেকে মারধর করেন। এ সময় ব্যাংকারের ছেলের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের ধস্তাধস্তি হয় এবং মারমুখী শিক্ষককে প্রতিহতের চেষ্টা করেন। পরে ব্যাংকারের ছেলে ও স্ত্রী তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পুনরায় প্রধান শিক্ষক নিজাম আরও কিছু লোকজনকে নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় নিজাম নিজে লাঠি হাতে ভাঙচুর এবং ব্যাংকারের স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও স্থানীয় এক যুবক তার ফেসবুকে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক নিজাম লাঠি হাতে জানালার কাচ ভাঙচুর করছেন। তিনি অকথ্য ভাষায় চিৎকার করে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। এ সময় পুরো বাড়িতে আতঙ্ক দেখা দেয়। শিশুরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কান্না করতে থাকে।   

এ ঘটনায় হামলার শিকার ওই ব্যাংকার থানায় অভিযোগ করেছেন। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষকও উল্টো হামলার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চরজব্বার থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যাংকার কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে একজন উপ-পরিদর্শক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাদের রোববার ভূঞারহাট ফাঁড়ি থানায় যেতে বলেন। তবে তিনি থানায় যেতে রাজি হননি। তিনি বলেন, মামলা করেছি, বিষয়টি আইনের গতিতে চলবে। 

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মো. সামচ্ছুজ্জামান নিজাম বলেন, স্থানীয় এক নারীর পারিবারিক বিরোধ তিনিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধান করে দেন। তার জের ধরে ব্যাংকারের স্ত্রী তার গায়ে জুতা ছুড়ে মারেন। এমন ঘটনায় স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে কামাল উদ্দিনের বাড়িতে যান। তিনিও নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে লাঠি হাতে নিয়েছেন মাত্র। তবে কোনো ভাঙচুর করেননি।