টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি নির্দেশ না মেনে বাসায় শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর অভিযোগে হোসনে আরা নামে এক শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। বুধবার আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন এ জরিমানা করেন। হোসনে আরা বাইমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
 
এলাকাবাসী জানায়, সরকারি নিয়ম না মেনে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষক হোসনে আরা দীর্ঘ দিন ধরে তার বাসায় কোচিং ক্লাস চালিয়ে আসছিলেন। গোপন খবরের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমান আদালত বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ওই শিক্ষকের বাসায় অভিযান চালানা। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে দেখেন। এছাড়া ওই সময় শিক্ষকসহ অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মুখেই মাস্ক ছিল না। পরে ভ্রাম্যমান আদালত ওই শিক্ষককে জরিমানা করেন।

অভিভাবকরা জানান, শিক্ষক হোসনে আরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে কিংবা কোচিং না করলে তাদেরকে ভাল চোখে দেখেন না। অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ালেও চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক কোচিং করতে হয়।  বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেন না তিনি। অভিভাবকরা আরও জানান, কোচিং ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে হোসনে আরা ২ হাজার টাকা করে আদায় করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পেটানোর অভিযোগও রয়েছে।

এ ব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান বলেন, জরিমানা করার বিষয়টি আমাদের জন্য দুর্নামের। ওই শিক্ষককে কোচিং না করানোর অনুরোধ করলেও তিনি তা মানেননি।

প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে তিনি একটা ভবন করেছেন। যা বেতন পান তা ঋণ বাবদ কেটে নেয়। সংসার চালাতে তাই তিনি প্রাইভেট পড়ান। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, সরকারি নিয়ম না মানায় তাকে জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও তিনি নিয়ম না মানলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।