বগুড়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা রীতিমত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে অনলাইন ব্রিফিংয়ে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৯৮ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ১ হাজার ১৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হলো।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জেলার সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেন। রাত ৯টার এই ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গত ৯ জুন উপসর্গ নিয়ে যে ৩ জন মারা গেছেন তারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ছিলেন। এ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হলো। তবে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১২ জন সুস্থও হয়েছেন। ফলে সুস্থতার সংখ্যাটাও বেড়ে পঁচাশিতে গিয়ে ঠেকেছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগের দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার জেলায় দ্বিগুণেরও বেশি ৫৬৬ জনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে সরকারি ও বেসরকারি পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা হয়েছে ২৬২টি নমুনা। তার মধ্যে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা ১৮৮টি নমুনায় ৬৫জনের পজিটিভ আসে। আর বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে বগুড়ার ৭৪টি নমুনার মধ্যে পজিটিভ আসে ৩৩টি।

বগুড়ায় গত ১ এপ্রিল প্রথম এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন। তারপর থেকে ১১ জুন পর্যন্ত জেলায় মোট ১০ হাজার ৬২৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা হয় ৮ হাজার ১৪৯টি। পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশের করোনা পজিটিভ মিলেছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বা ৮৫ জন সুস্থ হয়েছেন আর ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। যা মোট আক্রান্তের শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ।

নতুন করে আক্রান্ত ৯৮ জনের মধ্যে ৫৮ জন পুরুষ, ৩০ নারী এবং বাদবাকি ১০ জন শিশু রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৫ জনের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর। এছাড়া ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী রয়েছেন ১৬জন, ৫১ থেকে ৭০ বছর বয়সী রয়েছেন ২৪ জন এবং ৭০ বছরের উর্ধ্বে আরও ৩জন আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলাওয়ারী হিসাবে দেখা গেছে, বরাবরের মত বগুড়া সদরই শীর্ষে রয়েছে। সংক্রমিত ৯৮ জনের মধ্যে ৫৬ জনের বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলা এলাকায়। সদরের অধিকাংশেরই বাড়ি শহরের জলেশ্বরীতলা, নারুলী, নাটাইপাড়া, চেলোপাড়া, রহমাননগর এলাকায়। তবে গোকুল এলাকারও কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে সারিয়াকান্দিতে একই পরিবারের ৪ জনসহ বৃহস্পতিবার ২২ জন আক্রান্ত হন। এ ছাড়া আদমদীঘিতে ৫ জন, কাহালুতে ৪ জন, শিবগঞ্জে ৪ জন, শাজাহানপুরে ২, গাবতলীতে ২, ধুনটে ২ ও শেরপুরে ১ জন সংক্রমিত হয়েছেন।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, নতুন আক্রান্তদের আপাতত নিজ নিজ বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে এদের মধ্যে কারও অবস্থা জটিল মনে হলে তাদের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।