খাবার সন্ধানে বের হওয়া কক্সবাজার টেকনাফের সেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে বিদুৎপৃষ্ট হয়েই।

শনিবার রাতে টেকনাফ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শওকত আলী হাতিটির ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বিদ্যুতায়িত হয়েই হাতির মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শওকত আলী জানান, পরীক্ষা নিরিক্ষা করে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে এবং সে অনুযায়ী তিনি প্রতিবেদন তৈরি করে বন বিভাগের কাছে জমা দিয়েছেন।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, হাতিটির ওজন আনুমানিক ৭শ কেজি। এটির মাথার দিকে ওপরের চামড়ায় ক্ষত ছিল ও শুঁড়ের ভেন্টাল রিজিয়নে কাল দাগ ছিল। এছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তিনি শরীরের ভেতর-বাইরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবস্থার বর্ণনা দেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালীর খন্ডা কাটা এলাকায় খাবারের সন্ধানে এসে বন্য দাঁতাল ৩৫ বছরের হাতিটি বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের সাথে লেগে মৃত্যুবরণ করে। যেখানে হাতিটি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়েছিল সেখানে খুব নিচ দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন টানা হয়েছিল।

এব্যাপারে টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমদ বলেন, শুক্রবারই আমরা বলেছি হাতি চলাচলের রাস্তায় অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক লাইন নেয়ার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।  ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সেইটি প্রমাণিত হলো। এ ব্যাপারে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে হাতি মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধায় হাতিটিকে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে।  এর আগে হাতির দাঁত দুটি কেটে নেয়া হয়। 

বন্যপ্রানী গবেষক শীতল কুমার নাথ জানান, এমনিতে হাতির পালে দাঁতাল হাতি থাকে খুব কম। একটা পালে দুয়েকটা দাঁতাল থাকে। হাতির বংশ বৃদ্ধিতে তাদের গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়া মূল্যবান দাতের কারণে এরা হাতি শিকারীদের টার্গেটও এরা।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের পর মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া টেকনাফের পাহাড়ী এলাকায় আশ্রয় নেয়ার পর হাতির পাল আবাসস্থল ও খাদ্য না পেয়ে প্রায় সময় লোকালয়ে নেমে আসার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কিছু হাতি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ বিদ্যুপৃষ্ট হয়ে শুক্রবার বন্য দাঁতাল হাতিটি মারা যায়।