প্রেমিকার নির্দেশে খুন করা হয় মোবারককে: পুলিশ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২০   

নাটোর প্রতিনিধি

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতাররা -সমকাল

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতাররা -সমকাল

চতুর্ভূজ প্রেমের সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেওয়ায় প্রেমিকা আরিফার নির্দেশে খুন করা হয় নাটোরের বড়াইগ্রামের ইকোরি গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেনকে। পুলিশ ঘটনার মাত্র ২দিনের মাথায় এ হত্যারহসের উদঘাটন ও হত্যকাণ্ডে জড়িক অপর তিন প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লিটন কুমার সাহা জানান, গত ১৫ জুন বড়াইগ্রাম উপজেলার ইকোরি গ্রামের মৃত খয়ের উদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন (৩৮) খুন হন। মোবারককে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রানী বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তদন্তে নামে। ঘটনার পারিপার্শিকতা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে সোনাবাজুর কাচু খার স্ত্রী আরিফা বগেমকে (৩০) গ্রেফতার করে।

তিনি বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং অপর তিন প্রেমিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা জানায়। পুলিশ ওই তিনজনকে গ্রেফতাকার করেছে। তারা হলেন- সোনাবাজু গ্রামের ইমরুল প্রামাণিকের ছেল রশিদ প্রামাণিক (৩৮), একই গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জিহাদ আলী (৩২) এবং ইকোরি গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩৫)।

পুলিশ সুপার জানান, এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন আরিফা। তিনি পালাক্রমে নিহত মোবারকসহ ৪জনের সঙ্গেই অবৈধ মেলামেশা ও তাদের কাছে থেকে টাকাপয়সা হাতিয়ে নিতেন। মোবারক ঠিকমত আরিফাকে টাকা দেননি এবং তিনি অন্যদের সঙ্গে আরিফার সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেন। এতে আরিফা ক্ষুদ্ধ হন এবং অপর তিন প্রেমিককে নিয়ে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন মোবারক গরু চড়াতে গেলে আরিফা বেগম শাররীক মেলামেশার প্রলোভন দিয়ে মোবারককে পাট ক্ষেতে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোবারককে হত্যা করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করেতে থাকেন। হত্যার পরে আসামিরা মোবাইলফোনে কোনরকম যোগাযোগ করেনি। কিন্তু পারপার্শিকতা বিবেচনায় পুলিশ বিচক্ষণতার সঙ্গে আরিফাকে টার্গেট ও আটক করে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল ইসলাম, নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত , বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলিপ কুমার দাস, ডিবির ওসি আনারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।