মেস ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে কুবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২০   

কুবি প্রতিনিধি

'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাসা ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেবেন এই আশায় বসে আছি তিনমাস। তিনমাসে সব মিলিয়ে দশ হাজারের বেশি টাকা ভাড়া হয়েছে আমার। এভাবে কয়মাস বাড়িতে বসে থাকতে হবে জানা নেই। বাসার মালিক বলছেন হয় বাসা ছেড়ে দিতে, নয়তো ভাড়া দিতে। আমার বাড়ি নওগাঁয়। আমি কিভাবে কুমিল্লা এসে বাসা ছেড়ে দেব?' এভাবেই নিজের অক্ষমতার কথা প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম। 

আমিনুল জানান, কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষার্থী মিলে বাসা ভাড়া করে থাকেন তারা। প্রতিমাসে তাদের বাসা ভাড়া হিসেবে ৯ হাজার টাকা, গ্যাস বিল মিলিয়ে আরো প্রায় দেড় হাজার টাকা গুণতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্বাসে ভাড়া না দেওয়ায় গত তিনমাসে তাদের বকেয়া হয়েছে ৩১ হাজার ৪২৫ টাকা। একসঙ্গে এতগুলো টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত এই বাসার শিক্ষার্থীরা। শুধু এই বাসার শিক্ষার্থীরা নন, তাদের মতো প্রায় ৫ হাজারের বেশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এমন সংকটে পড়েছেন। 

করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে তিন মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও। শিক্ষার্থীরাও চলে গেছেন নিজ নিজ পরিবারের কাছে। তবে মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। একসঙ্গে তিনমাসের ভাড়া জমে যাওয়ায় এ সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২০ শিক্ষার্থী জানান, 'আমরা তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেসে নেই। তারপরও ভাড়া দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন থেকে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। এখন বাড়িওয়ালারা খুব খারাপ ব্যবহার করছে। বাড়ির মালিকদের দাবি, বাসায় না থাকলে বাসা ছেড়ে দিতে।' 

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, এখন যদি বাধ্য হয়ে তাদের বাসা ছেড়ে দিতে হয় তাহলে তাদের অবশ্যই কুমিল্লায় যেতে হবে। আর করোনার এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুমিল্লায় যেয়ে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে পড়বেন তারা। 

শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফ করার জন্য গত ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে চিঠি পাঠানো হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের স্বাক্ষরিত 'করোনার সময়ে কমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের প্রসঙ্গে' কুমিল্লার স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু চিঠি পাঠানোর পর মাস পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোন ঘোষণা না পেয়ে সংকটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, মেস ভাড়া বিষয়ক সমস্যা সমাধানের জন্য মেস মালিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে মেস মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য শিক্ষকদের নিয়ে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি বিষয়টির সমাধান পাবো। এর মধ্যে কোনো মেস মালিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে তাকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।