একজন গৃহকর্মীর জিপিএ-৫ পাওয়ার গল্প

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২০     আপডেট: ২৫ জুন ২০২০   

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

ঐশি মনজুর -সংগৃহীত ছবি

ঐশি মনজুর -সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্যে অবিচল থাকার পাশাপাশি দৃঢ় সংকল্প আর অধ্যবসায়ী মন থাকলে কোন প্রতিবন্ধকতাই সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। একাগ্রতা আর পরিশ্রমী মানসিকতাকে পুঁজি করে অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে যুদ্ধ করে যাওয়া মানুষেরাই জয়ী হয়।  এমনই ঘটনার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে মায়ের আঁচল ধরে বেড়ে ওঠা অজ পাড়াগাঁয়ের ঐশি মনজুর।

দুই প্রতিবেশীর বাড়িতে গৃহকর্মীরা কাজ আর অবসরে মায়ের দর্জির কাজে সাহায্য করে নিজ চেষ্টায় লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছে সে। টানা তিনটি বছর ধরে দিন রাতের পার্থক্য ভুলে মানুষের বাড়ির কাজ আর নিজের লেখাপড়া একসাথে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিদান হাতেনাতে পেয়েছে ঐশি।

সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া নাগবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ হতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। অপরাপর সব বিষয়ে এ+ পেয়েও শুধুমাত্র ইংরেজির কারণে গোল্ডেন জিপিএ-৫ না পাওয়ার আক্ষেপ প্রতিনিয়িত পোড়াচ্ছে তাকে।

ঐশি জানায়, মাধ্যমিকে ওঠার আগেই অসুস্থ মাসহ তাকে ছেড়ে চলে যায় বাবা। নানা বেঁচে না থাকায় নানির সংসারে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও পড়ালেখার খরচ যোগানো দুরুহ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় কাজের শক্তি হারানো অসুস্থ মা জেবুন্নেছা বেগম দর্জির কাজ বেছে নিলেও ঐশি ৩ প্রতিবেশীর বাড়িতে সকাল সন্ধ্যা গৃহস্থলীর কাজ শুরু করে। তবে দশম শ্রেণিতে ওঠার পর পড়ালেখায় আশানুরুপ অগ্রগতি না হওয়াতে এক বাড়ির কাজ ছেড়ে দেয় সে। মানুষের বাড়িতে দু’বেলা কাজের ফাঁকে মামার কিনে দেয়া সাইকেল থাকায় নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগটা অন্তত মিলতো তার। 

আর রাতের বেশির ভাগ সময় লেখাপড়ায় দিয়েছে- জানিয়ে ঐশি বলে, তার আর্থিক দুরাবস্থার কথা জেনে যারা তাকে কাজ দিয়েছিল শিক্ষক, সহপাঠীদের মত তাদের প্রতি কৃতজ্ঞের শেষ নেই। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে আগ্রহী ঐশির শংকা উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তিসহ পড়ালেখার বিশাল খরচ যোগানো তার মত একটা নিরাশ্রয় ও অসহায় মেয়ের জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হবে।

ঐশির মা জেবুন্নেছা বেগম বলেন, 'এক শতক জমি না থাকায় মা-ভাইয়ের সংসারে থাকতি হচ্ছে। চারিদিক থেকে সক্কলি বিয়ের কথাবার্তা বললিও মেয়েটা পড়ালেখা করে ডাক্তার হতি চায়।' 

তিনি আরও বলেন, 'সমাজের অনেক ভাল মানুষ আছে, যারা মানুষের সাহায্য করে। আমার এমন মেধাবী মেয়েডারে যদি কেউ এটটু লেখাপড়ার সুযোগটা দিত তবে হয়তা ওর স্বপ্নডা পূরণ হতো।'

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবর রহমান বলেন, ঐশি অনেক মেধাবী। মানুষের বাড়িতে কাজ করে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে যেভাবে সে এসএসসিতে সাফল্য পেয়েছে, একটু সাহায্য মিললে সে অনেক দূর যেতে পারবে।