অঝোরে কাঁদলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২০     আপডেট: ২৯ জুন ২০২০   

গাজীপুর প্রতিনিধি

স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু লিলির মরদেহ সামনে নিয়ে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী- সমকাল

স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু লিলির মরদেহ সামনে নিয়ে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী- সমকাল

স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু লিলির মরদেহ সামনে নিয়ে অঝোরে কাঁদলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। জানাজার আগে দীর্ঘ সংসার জীবনে স্ত্রীর সহযোগিতা, ধর্ম পরায়ণতা, সততা আর দায়িত্বশীলতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে স্ত্রীর শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতি চারণও করেন উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে।

সোমবার যোহরের নামাজের পর গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর দারুস সালাম গোবরস্থান জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজার পূর্বে স্ত্রীর জন্য সকলের দোয়া প্রার্থনা করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমার স্ত্রীর অন্তিম ইচ্ছা ছিল- কোনো মহামারিতে যেনো তার মৃত্যু হয়। তাহলে শহীদের মর্যাদা পাবে। তার ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে। মহামারিতেই মৃত্যু হলো। নিশ্চয়ই সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।’

একমাত্র ছেলে এটি এম মাজহারুল হক তুষারের ইমামতিতে নামাজে জানাজা শেষে তাকে গাজীপুর শহরে অবস্থিত প্রধান গোরস্থানে সমাহিত করা হয় লায়লা আরজুমান্দ বানু লিলিকে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ জুন মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর স্ত্রী লিলি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসলেও স্ত্রীর অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। সিএমএইচ-এ তার চিকিৎসা চলছিল। সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

১৯৪৯ সালের ৬ জানুয়ারি গাজীপুরে শেখ মোবারকের ঔরসে এবং লাল বানুর গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন লায়লা আরজুমান্দ বানু লিলি। ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি মৃত্যুর আগে স্বামী, ২ মেয়ে, এক ছেলে এবং ৬ জন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।