সিলেটে শাহজালাল (রহ.)-এর ওরস এবার হচ্ছে না

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০     আপডেট: ৩০ জুন ২০২০   

সিলেট ব্যুরো

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অসম্ভব হওয়ায় সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের বার্ষিক পবিত্র ওরস মোবারক এবার হচ্ছে না।

মঙ্গলবার বিকেলে দরগাহ-ই হযরত শাহজালাল মর্জরদে ইয়ামনী (রহ.) এর মোতাওয়াল্লী ফতেহ উল্লাহ আল আমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পূণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত সিলেটে দীর্ঘ ৭শ বছর ধরে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে নিয়মিত বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো ভক্ত-আশেকান যোগ দেন। 

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ৭০১তম ওরস বন্ধ রাখা হচ্ছে। আগামী ১১ ও ১২ জুলাই মাজারের বার্ষিক ওরস হওয়ার কথা ছিল। 

মঙ্গলবাজার মাজারের অফিসে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে লিখিত বক্তব্যে মোতাওয়াল্লী ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, কোভিড-১৯ এর সামাজিক সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মোতাবেক সরকার কর্তৃক মহামারির প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকা লকডাউনসহ সামাজিক দূরত্ব বজায়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সারাদেশে ন্যায় সিলেটেও সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় অন্যান্য বছরের মত পবিত্র ওরস মোবারক আয়োজন করা কঠিন হবে। জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, করোনা ভাইরাসজনিত মহামারির বিস্তার রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য উরুস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ অবস্থায় হযরত শাহজালালের (রহ.) ভক্তবৃন্দ ও আশেকানদের দরগায় একত্রিত না হওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দোয়ার মাধ্যমে পবিত্র ওরস মোবারকে শরিক হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। 

গত ২০ জুন ‘রেওয়াজ’ রক্ষায় মাজার কর্তৃপক্ষ লাকড়ি তোড়া উৎসব সীমিত পরিসরে পালন করেন। সেদিন মাজার কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে লাকড়ি তোড়া উৎসব পালন করলেও স্বপ্রণোদিতভাবে শত শত ভক্ত মাজারে জমায়েত হয়েছিলেন। প্রতি বছর লাকড়ি তোড়া উৎসবে ভক্ত-আশেকানরা যে লাকড়ি  সংগ্রহ করেন, তা দিয়েই ওরসের শিরনি রান্না হয়। লাকড়ি তোড়া উৎসবের অভিজ্ঞতায় বার্ষিক উরুস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন মাজার পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। 

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও ৩৬০ আউলিয়া ভক্তবৃন্দ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. মকন মিয়া, মাজারের খাদেম তৌফিক আহমদ চৌধুরী লাভলু, ভক্তবৃন্দ পরিষদের সহ-সভাপতি শেখ জালাল উদ্দিন ফরিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন সিরুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওয়ারিছ মিয়া প্রমুখ। 

উল্লেখ্য বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার থেকে শুরু করে যেকোন রাজনৈতিক কর্মসূচি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু করার প্রচলন রয়েছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সিলেট সফর শুরু হয় এই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজারো ভক্তরা মাজার জিয়ারতে আসেন।