মাত্র একমাসের ব্যবধানে আবারও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সিমলা এলাকায় পাউবোর স্পারবাঁধ। বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার অংশ (মাটির স্যাংক) বুধবার রাতে যমুনা নদীর প্রবল স্রোতে ধসে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধ অভ্যন্তরের পাঁচঠাকুরী এলাকার প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীনের আশঙ্কায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বাঁধ সংলগ্ন আরও কয়েকশ’ পরিবার। আতঙ্কে বাড়িঘর দ্রুত সরিয়ে নিচ্ছে নদী তীরের মানুষজন। 

ছোনগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল আলমসহ স্থানীয়রা জানান, ধস অব্যাহত থাকায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে নদী পাড়ের মানুষজন। ধস ঠেকাতে গতানুগতিক বালির বস্তা ফেলছে পাউবো।

২০০০-২০০১ অর্থ বছরে এ এলাকার ভাঙন রোধে সিমলা এলাকায় স্পারবাঁধটি নির্মাণ করা হয়। এরপর বেশ কয়েকবার এটি সংস্কারও করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ মে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে বাঁধের স্যাংক (স্পারের মাটির অংশ) প্রায় ২১ মিটার ধসে গিয়েছিল। সেখানে বালির জিওব্যাগ দিয়ে সংস্কার করা হয়। এ অবস্থায় বুধবার রাতে পূর্বের সংস্কার করা স্থানসহ আরও ৭০ মিটার বাঁধ ধসে যায়। 

পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি সংস্কার করা স্থানসহ বাধের প্রায় ৭০মিটার নদীতে ধসে গেছে। ধসে যাওয়া স্থানে জিওব্যাগ ফেলে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। 

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে জরুরি প্রতিরক্ষার কাজ চললেও আগামী শুস্ক মৌসুমে মূল প্রতিরক্ষাসহ বাঁধটি পুনরায় জোরা লাগানোর চেষ্টা করা হবে। 

সদর উপজেলা ইউএনও সরকার অসিম কুমার জানান, বাঁধ ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। কাজিপুর উপজেলা পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।