নামের সঙ্গে মিল থাকায় কারাগারে মুদি দোকানি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২০     আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা ব্যুরো

নামের সঙ্গে কিছুটা মিল থাকায় প্রায় চার মাস ধরে জেল খাটছেন খুলনার সালাম ঢালী (৫৭) নামে এক নিরপরাধ ব্যক্তি। তার পরিবারের অভিযোগ- খুলনা মহানগরীর শেখপাড়া মেইন রোডের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আবদুস সালামকে না ধরে পুলিশ শেরেবাংলা রোডের মফিজ উদ্দিন ঢালীর ছেলে সালাম ঢালীকে গ্রেপ্তার করে। অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি আদালতকে জানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ।

নগরীর শেরেবাংলা রোডের সালাম ঢালীর স্ত্রী শারমিন আকতার কাকলী অভিযোগ করে বলেন, গত ১১ মার্চ রাতে পুলিশ তাদের বাসায় গিয়ে তার স্বামীকে আটক করে সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্বামীকে বাগেরহাটের মোংলা থানার একটি চুরি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে খুলনা ও বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু তার স্বামী সালাম ঢালী ওই মামলার আসামি নয়। ওই মামলার আসামি হচ্ছে শেখপাড়া মেইন রোডের মৃত শফিজ উদ্দিনের ছেলে আবদুস সালাম। তার শ্বশুরের নাম মফিজ উদ্দিন ঢালী। তার স্বামীর বয়স ৫৭ বছর, আর মামলার এজাহার অনুযায়ী প্রকৃত আসামির বয়স এখন ৬২ বছর।

শারমিন আকতার কাকলী অভিযোগ করে বলেন- নাম, বাবার নাম, বয়স ও ঠিকানা এক না হওয়ার পরও পুলিশ তার স্বামীকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে। তার স্বামী গত প্রায় চার মাস ধরে বিনা অপরাধে বাগেরহাট কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। বিষয়টি সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, তার স্বামীর মুদি দোকানের আয় দিয়ে তাদের সংসার চলত। কিন্তু স্বামী কারাগারে থাকায় দোকান বন্ধ, সংসার চলছে খুব কষ্টে।

সালাম ঢালীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ সমকালকে বলেন, ২০০৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ইলেকট্রিক সামগ্রী চুরির ঘটনায় মোংলা থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ২০০৯ সালের ৩০ জুলাই ওই মামলার রায়ে আসামি আবদুস সালামের দুই বছরের সাজা হয়। সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালত থেকে সোনাডাঙ্গা থানায় পাঠানো হয়। ১১ বছর পর ওই মামলায় পুলিশ প্রকৃত আসামিকে না ধরে অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি জানান, পুলিশ ভুল করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। শিগগিরই বিষয়টি লিখিতভাবে বাগেরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জানানো হবে।

এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক সমকালকে বলেন, নামে মিল থাকায় ভুল করে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে আরেক সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিষয়টি খুলনা মহানগর হাকিম আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাটের সংশ্নিষ্ট আদালতে জানানো হচ্ছে।