ফরিদপুরে পেঁয়াজ বীজ খামার পরিদর্শণে শরীয়তপুরের কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষক-কৃষাণী

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২০   

ফরিদপুর অফিস

দেশের মোট চাহিদার ৮০ ভাগ কালো সোনা খ্যাত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হয় ফরিদপুর জেলায় । আর এ বীজ উৎপাদনের সিংহ ভাগই করেন ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের কৃষক বক্তার খান ও কৃষাণী সাহিদা বেগম।

বুধবার দুপুরে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ওই কৃষকদের পেঁয়াজ বীজ খামার পরিদর্শণ করেন শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ৫৫জন কৃষক-কৃষাণী।

খামার পরিদর্শণ শেষে ফরিদপুর শহরের অম্বিকাপুরে বক্তার খানের বাড়ির আঙ্গিনায় এক কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
 
ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবুল বাসার মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে পেঁয়াজ বীজ চাষ ও বীজ সংরক্ষণের বিষয়ে শরীয়তপুর থেকে আগত কৃষক ও কৃষাণীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষক বক্তার খান ও কৃষাণী সাহিদা বেগম।

কৃষক বক্তার খান বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। তার সাথে ছোটবেলায় মাঠে কাজ করেছি, কৃষি কাজে বাবাকে সহযোগিতা করেছি। তার কাছ থেকেই পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন করা শিখেছি। প্রথম প্রথম অল্প জমিতে করতাম। ২ বিঘা জমি দিয়ে শুরু করেছিলাম। ধীরে ধীরে বীজ চাষাবাদের পরিধি বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর ২৫ একর জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করে ১৫০ মন বীজ পেয়ে ছিলাম। এবছর ৩০ একর জমি থেকে ২০০ মন বীজ পেয়েছি। একজন কৃষক হিসাবে আমি সফল। এই কৃষিকাজ করে আমি গাড়ি কিনেছি, বাড়ি করেছি। এছাড়াও ঢাকার বুকে এক খণ্ড জমির মালিক হয়েছি। আমার বীজের চাহিদা সারা দেশে। মৌসুম শুরুর সাথে সাথে আমার বীজ শেষ হয়ে যায়। আমি তাহেরপুরী, সুপার কিং, ফরিদপুর বারী-১ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে থাকি। আমার খামারে কাজ করে অনেক বেকার যুবক ও অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়েছে। তারাও পরিবার নিয়ে ভালো আছে।

কৃষক সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শরীয়তপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমীর হামজা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শরীয়তপুরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ এ কে এম মহিউদ্দিন, ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. আনোয়ার হোসেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা ইসলাম প্রমুখ। ওই সমাবেশে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও শরীয়তপুর জেলার ৫৫জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।