ঈশ্বরদীতে করোনা পরীক্ষার নামে প্রতারণার অভিযোগ, ক্লিনিক মালিক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২০   

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে চাকরি করতে আসা শ্রমিক-কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষার সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে কর্তৃপক্ষ। এ সুযোগে শ্রমিক-কর্মচারীদের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দিয়ে সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পাকশীর ‘মেডিকেয়ার’ নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নমুনা সংগ্রহের অনুমোদনহীন ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আবদুল ওহাব রানাকে (৪০) বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

রানা ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের চর রূপপুর নলগাড়ী গ্রামের জামাত আলীর ছেলে। 

ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দীন জানান, রূপপুর প্রকল্পের ১৭০ জন শ্রমিকের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে মেডিকেয়ারের মালিক রানা। পরীক্ষা বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে ফি নেওয়া হয়। নমুনা সংগ্রহ করেন চক্রের আরেক সদস্য নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটাবাড়িয়ার আরশেদ আলী সরকারের ছেলে সুজন আহমেদ। 

ওসি আরো জানান, রানা ও সুজন রূপপুর মার্কেট এলাকায় ইটভাটার মাঠে তাঁবু টাঙ্গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা পরীক্ষার জন্য তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান বলে দাবি করেন। প্রকৃতপক্ষে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো ছিল।

এদিকে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাইদ মুঠোফোনে জানান, ওই নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ৬ জুলাই পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলোর কথা তিনি জানেন না। আর ওই ক্লিনিকের সরকারি অনুমোদন আছে কিনা, তাও তার জানা নেই।

এ ব্যাপারে মেডিকেয়ারের পরিচালক আরিফুল বারী কিরণ দাবি করেন, রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেস্ট রোশেম, নিকিমথ ও রুইনওয়ার্ল্ডের অনুরোধে তারা নমুনা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে।