বগুড়া-১ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাহাদারা মান্নান বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজের ট্রাক প্রতীকে পড়েছে ১ হাজার ৫৬৩ ভোট।

রিটার্নিং অফিসার ও বগুড়া জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ্ মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।  তিনি জানান, ওই আসনে ১২৩টি কেন্দ্রে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯১৮জন ভোটারের মধ্যে করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ৪৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।

বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা  হয়। এরপর ওই আসনে ২৯ মার্চ উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমে পড়েন।

তবে ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর জনগণের দাবির মুখে উপ-নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ১৪ জুলাই ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। তবে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জুনের শেষ দিকে উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধিতে দুই উপজেলার চর ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ১৪টি কেন্দ্রকে বাঁধ বা নিকটবর্তী উঁচু স্থানে সরিয়ে নেয়।

করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী একেএমে আহসানুল তৈয়ব জাকির গত ৫ জুলাই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ফলে ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ প্রার্থীর নাম থাকলেও মূলত পাঁচজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সাহাদারা মান্নান, জাতীয় পাটির মোকছেদুল আলম, খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম, পিডিপির মো. রনি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমাতুল্লাহ ইন্তাজ। 

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। কিছু কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট সম্পন্ন হয়।