বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল। এর আগে তাকে ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বর্তমান নৌ বাহিনী প্রধান আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন আওরঙ্গজেব চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন শাহীন ইকবাল। গত সাত মাস ধরে সহকারী নৌ প্রধান (অপারেশন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।

২৫ জুলাই অপরাহ্ন থেকে এক বছর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (এলপিআর) যাচ্ছেন আওরঙ্গজেব চৌধুরী।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শাহ আব্দুল আলীম খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবালকে আগামী ২৫ জুলাই অপরাহ্নে ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পূর্বক প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগ, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা অনুসারে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই অপরাহ্ন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পূর্বক নতুন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

রিয়ার এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল  ১৯৮০ সালের ১ জুন নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি নৌবাহিনী ফ্রিগেটসহ সকল শ্রেণীর জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাটি কমান্ড করেছেন। তাছাড়া তিনি নৌ সদরে সহকারী নৌ প্রধান (অপারেশান্স), সহকারী নৌ প্রধান (পার্সোনেল), পরিচালক নৌ অপারেশান্স, পরিচালক নৌ গোয়েন্দা, চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার, খুলনা নৌ অঞ্চলের অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পালন করেন। রিয়ার এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল তার অসামান্য একাডেমিক সাফল্য ও পেশাদারিত্বের জন্য নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ পদক (এনবিপি) এবং নৌ উৎকর্ষ পদকে (এনইউপি) ভূষিত হন।

চাকুরী জীবনে রিয়ার এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিশেষ অবদান রাখেন। ২০১৩ সালে খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার এর দায়িত্ব পালন কালে তিনি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচারক ও বিশ্লেষক দলের  সঙ্গে কাজ করেন এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, মিয়ানমার-টেকনাফ মাদক এবং মানব পাচার রোধে বিশেষ অবদান রাখাসহ জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সালে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পুনর্বাসনের জন্য ভাসান চর প্রকল্পের বাস্তবায়নে রিয়ার এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল অন্যতম মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রকল্পের পরিকল্পনা, তদারকি ও বাস্তবায়ন কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা মোতাবেক প্রকল্প সূচনার মাত্র ১০ মাসের মধ্যে এক লক্ষ রোহিঙ্গাদের জন্য একটি প্রত্যন্ত দ্বীপকে বাসযোগ্য করে তোলার মাধ্যমে তিনি সর্বমহলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন।

ব্যক্তি জীবনে রিয়ার এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তার আদিবাস কুমিল্লায়। পারিবারিক জীবনে তিনি মিসেস মনিরা রওশন আক্তারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র ছেলে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। তার স্ত্রী ইউএনএফপিএ-তে  গবেষক হিসেবে কাজ করছেন।