চট্টগ্রামে নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদে তরুণ মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই হেলাল খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অধীস্তন অফিসারদের নিয়ন্ত্রণ ও সঠিকভাবে তদারকিতে গাফিলতির কারণে ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশকে শোকজ করা হয়েছে।

সাত দিনের মধ্যে শোকজের জবাবও দিতে বলা হয়েছে। সোমবার তরুণ মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার পরই এই শাস্তিমূলক পদক্ষে নেওয়া হয়।

সিএমপির উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক সমকালকে বলেন, ‘তদন্তে অভিযুক্ত হওয়ায় এসআই হেলালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওসি সদীপ দাশকে শোকজ করা হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে ভিকটিম তরুণ মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত পুলিশের তিন সদস্যের তদন্ত প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করেছিলেন। এসআই হেলাল খানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কমিটি। এ ছাড়া নিজের অধীনস্ত অফিসারকে নিয়ন্ত্রণ ও সঠিকভাবে তদারকি করতে ব্যর্থ হওয়ায় ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ দাশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে কমিটি।’

সোমবার বিকেল ৫টার পর সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমানকে ১৭ পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কমিটির প্রধান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদের সাথে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অপর দুই সদস্য ডবলমুরিং জোনের সহকারি কমিশনার (এসি) শ্রীমা চাকমা ও নগর পুলিশের সিএসবি শাখার সহকারি কমিশনার (এসি) নুরুল আফসার ভূঁইয়া।

সিএমপির ডিসি (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদ সমকালকে বলেন, ‘তদন্ত করতে গিয়ে এসআই হেলাল খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বেশ কিছু বিষয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তার আচার আচরণে সমস্যা ছিল। তাই তাকে সাময়িক বরখাস্তসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ দাশ তার অধস্তন কর্মকর্তাদের উপর সঠিক তদারকি না থাকার প্রমাণ পাওয়ার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।’

সিএমপির একটি সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তসহ মোট ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ঘটনার দিন এসআই হেলাল খান থানার ওসিকে অবগত না কওে সেখানে বেআইনিভাবে অভিযানে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযান পরিচালনার সময়ে এসআই হেলাল পুলিশি পোশাক পরা অবস্থায় ছিলেন না। ভিকটিম তরুণের মাকে গাড়িতে তোলারও সত্যতা পাওয়া যায়। সে কারণে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযানের সময় অন্য দুইজন রাজীব ও সবুজের নাম উঠলেও তদন্ত কমিটি তাদের বিরুদ্ধে কোনও সাক্ষ্য প্রমাণ পায়নি। ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে পুলিশের যত আইন কানুন মেনে দায়িত্ব পালন করার কথা তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।