দোহারে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২০   

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি

বুধবার দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার

বুধবার দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার

ঢাকার দোহার উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকার (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের জানান, মূলত ২ কেজি স্বর্ণের লোভে তপন হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তপনের পরিবারের এক সদস্যের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে সাংবাদিকদের জানান পুলিশ সুপার। ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করলেও দুর্বৃত্তরা ডাকাতি করতে না পেরে তপন কর্মকারকে হত্যা করে বলে জানান তিনি।

মারুফ হোসেন সরদার জানান, মামলাটি আলোচিত হওয়ায় আমরা আমাদের ডিপার্টমেন্টের দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই মামলার তদন্ত কাজ শুরু করি। যে কারণে ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সাথে সাতজন আসামি সম্পৃক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে মূল আসামিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকী দুইজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ দক্ষিণ) হুমায়ন কবিরসহ আরও অনেকে।

গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন হলেন- নিহত তপনের বৌদি মনি কর্মকারের বোন জামাই ভোলানাথ ওরফে হৃদয় (৪৬), প্রেমানন্দ হালদার (৩০), সাধু বিশ্বাস (৩৫), সবুজ চন্দ্র বিশ্বাস (৩০) ও আলী মিয়া (৩২)। এর মধ্যে ভোলানাথ ও প্রেমানন্দের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা গ্রামে। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগিনা। এছাড়া সাধু বিশ্বাসের বাড়ি দোহার উপজেলা অরঙ্গাবাদ গ্রামে, সবুজ বিশ্বাসের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার কান্দাবাড়িল্যা গ্রামে এবং আলী মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকারকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ওই ব্যবসায়ীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী মনি কর্মকারকে তুলে নিয়ে যায় তারা। বুধবার দুুপুর ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। ওই দিনই সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে মনি কর্মকারকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী।