গাইবান্ধায় বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়ার পানি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২০   

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে একটি পরিবার -সমকাল

বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে একটি পরিবার -সমকাল

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, করতোয়া নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ১০ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯৭ সে.মি., ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে ৯ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৫ সে.মি. এবং করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি পয়েন্টে ৬ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৬ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এদিকে একই সময় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হয়েছে এবং ধীরগতিতে কমছে। 

অন্যদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকজন পুনরায় বাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থান, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকাসহ ৬টি ইউনিয়নে পানি ওঠায় লোকজন বিপাকে পড়েছে। অনেক এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার জমিগুলোর আখ, পাটসহ বিভিন্ন ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলের লোকজন তাদের গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে। হাটবাজারে খুব একটা ক্রেতা না থাকায় এবারে বেচাকেনা যেমন কম তেমনি দামও পড়তির দিকে।

ফুলছড়ির এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের পাগলার চর গ্রামের মাইদুল ইসলাম জানান, তিনি নিজে ২২টি গরু ও ৫৫টি ছাগল পালন করেছেন ঈদে বিক্রির জন্য। প্রতিবছর পাইকারের কাছে বিক্রি করেন। এবারে এখনও পাইকার আসেনি। কিন্তু বন্যা এসে গেছে। তাই গবাদিপশু নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। তার মতো এমন অবস্থা ওই এলাকার অনেকের। এবারে অনেক লোকসান হবে তার।

ওই ইউনিয়নের জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদুল আযহার জন্য গবাদিপশু পালন করে এবারে চরাঞ্চলের লোকজন বিপাকে পড়েছে। আগে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার এসে গবাদিপশু কিনে নিয়ে বড় বড় নৌকা ও ট্রাকযোগে গন্তব্যে যেতো। এছাড়া স্থানীয় হাটেও চাহিদা থাকতো প্রচুর। কিন্তু এবারে কোন পাইকারের দেখা নেই। পাশাপাশি বন্যার প্রকোপ আরও বাড়ছে, তাই খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। জেলার বড় হাটগুলোতে বন্যার পানি ওঠায় অবস্থা আরও শোচনীয়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাস কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী জানান, ৬টি উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ওইসব এলাকার ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ৫৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বিতরণের কাজ চলছে।