টানা এক মাসের বন্যায় জামালপুরের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় ও চলমান তৃতীয় দফার দীর্ঘমেয়াদি বন্যার পানিতে ডুবে আছে জেলার ৭ উপজেলা ও ৮ পৌরসভার ৬৭৭টি গ্রাম। পানির স্রোতে কাঁচা-পাকা রাস্তা, ব্রিজ কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন এক মুক্তিযোদ্ধাসহ ২৫ জন। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়ায় কোরবানির ঈদের কেনাকাটার জন্যও মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় এ জেলার ১০ লাখ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানির তোড়ে মাদারগঞ্জের বালিজুড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার ভেঙে গেছে। এতে বাঁধ ও আশপাশের শতাধিক ঘরবাড়ি, অসংখ্য গাছপালা পানির স্রোতে ভেসে গেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ৩ ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানির স্রোতে ভেঙে গেছে সরিষাবাড়ির শুয়াকৈর সেতুর ৬০ মিটার। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সরিষাবাড়ির সঙ্গে মাদারগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পানিতে ডুবে থাকায় ও রাস্তা-ব্রিজ বিধ্বস্ত হওয়ায়, জামালপুর-বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দবাড়ি, রৌমারী-রাজীবপুর, মেলান্দহ-মাহমুদপুর, সরিষাবাড়ী-মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর-মাহমুদপুরসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলার অন্তত ৬০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে রাস্তার অনেক এলাকা, নির্মাণাধীন সেতু ও অ্যাপ্রোচ সড়ক। এসব রাস্তা মেরামত ও নির্মাণ করতে ব্যয় হবে অন্তত ২০ কোটি টাকা।

জামালপুর এলজিইডি সূত্র জানায়, বন্যার পানিতে ডুবে  বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৭শ' কিলোমিটার রাস্তা, ৬০টি ব্রিজ-কালভার্টের অ্যাপ্রোচ সড়ক ও ২টি ব্রিজ।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্গত এলাকার গ্রামীণ জনপদের ৩শ' কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা, একাধিক সেতু ও ৪ কিলোমিটার বাঁধ।