বাঁশখালীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২০   

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ

মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফের মরদেহ। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর জানাজায় উপস্থিত হওয়ায় জনতার রোষানলে পড়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে ব্যর্থ হন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমান। 

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শেখেরখীল ইউনিয়নের লালজীবন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

ডা. আলী আশরাফ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মৌলভী সৈয়দের বড় ভাই। রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। এই মুক্তিযোদ্ধা বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টায় শেখেরখীল ইউপির লালজীবন গ্রামে জানাজা শেষে মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ আলীর মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বিষয়টি রোববার মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কিন্তু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুর রহমান যথাসময়ে জানাজায় উপস্থিত না হয়ে এক ঘণ্টা পরে আসেন। এ সময় স্থানীয় জনতার রোষানলে পড়েন তিনি। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ স্থানীয় জনতার তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। 

বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফ আলীর জানাজায় পুলিশ সদস্যরা যথাসময়ে উপস্থিত থাকলেও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেরিতে পৌঁছান। এজন্য তিনি স্থানীয় জনতার রোষানলে পড়েন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনে ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে।'

এ বিষয়ে কথা বলতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।