পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন

শিবচরে আরও এক স্কুল ভবন নদীতে বিলীন

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২০     আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচরে কাঁঠালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন শেল্টারের তিনতলা ভবনটি মঙ্গলবার পদ্মায় বিলীন হয়ে যায় - মোহাম্মদ আলী মৃধা

মাদারীপুরের শিবচরে কাঁঠালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন শেল্টারের তিনতলা ভবনটি মঙ্গলবার পদ্মায় বিলীন হয়ে যায় - মোহাম্মদ আলী মৃধা

পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোতে মাদারীপুরের শিবচরের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। পদ্মার ভাঙনে চরাঞ্চল কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের একটি তিনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবন বিলীন হয়ে গেছে নদীতে। এ ছাড়া ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এখনও পানিবন্দি রয়েছে হাজার হাজার পরিবার। ভাঙন প্রতিরোধে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশনায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চিফ হুইপের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মধ্যে খাবার সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শিবচরের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে সাত ইউনিয়নে। পদ্মা-তীরবর্তী উপজেলার বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ী ও চরজানাজাতে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের ৭৭ নম্বর কাঁঠালবাড়ী সরকারি বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবনটির বৃহৎ অংশ বিলীন হয়। কয়েক দিন ধরে বিদ্যালয়টি ভাঙন ঝুঁকিতে থাকায় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশনায় ভাঙন প্রতিরোধে গত শুক্রবার বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়। মঙ্গলবার রাতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান বি এম আতাউর রহমান আতাহার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহতাফ উদ্দিন, জাহিদ হোসেন মোল্লা, মিনহাজুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রবিউলসহ শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিলীন হওয়া বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন।

৭৭ নম্বর কাঁঠালবাড়ী সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, 'বিদ্যালয়টি ভাঙনের ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তায় আছি। খুবই কষ্ট লাগছে।'

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'এক মাস ধরেই আমরা আতঙ্কে ছিলাম। বিদ্যালয়টি রক্ষায় চিফ হুইপ স্যারের নির্দেশে গত শুক্রবার ৬০০ ব্যাগ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে আর রক্ষা করা গেল না।'