ঈদযাত্রায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক যানবাহন পারাপার

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০   

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে কড্ডার মোড় এলাকায় মহাসড়কের দৃশ্য

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে কড্ডার মোড় এলাকায় মহাসড়কের দৃশ্য

করোনায় গাদাগাদি করে চলাচলে সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও থেমে নেই ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের দিকে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। মানুষজন তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপার হয়েছে ৪৮ হাজার ৩২১টি যানবাহন। এবারে এটি ছিল বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পর গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার।

এরমধ্যে ঢাকা থেকে উত্তরের দিকে পারাপার হয়ে ৩২ হাজার ৮৫টি এবং উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকার দিকে যায় ১৬ হাজার ২৩৬টি। জেলার ব্যস্ততম ঢাকা-রাজশাহী ও রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে ওই যানবাহনগুলো সেতু পারাপার হয়। 

গত বছর কোরবানির ঈদের আগে সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ২৪৮টি যানবাহন সিরাজগঞ্জ দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপার হয়েছে। এবার গতবারের সংখ্যা থেকে প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি রয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা ও টোল প্লাজার বরাত দিয়ে বগুড়া হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শহিদ উল্লাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপার হয়েছে ৪৮ হাজার ৩২১টি যানবাহন। এটি ছিল গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও গাদাগাদি করে ট্রাকে চড়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে মানুষ ছুটছে গন্তব্যস্থলে। বৃহস্পতিবার থেকে যানবাহনের চাপ বাড়লেও হাটিকুমরুল মোড় দিয়ে শুক্রবারও নির্বিঘ্নে উত্তরাঞ্চলের দিকে মানুষজন চলাচল করতে পারছে। 

তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করায় এবারে যানজট নেই। সেইসঙ্গে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকেও এবার চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া মহাসড়কে। 

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) টোল আদায় ব্যবস্থাপনার ইনচার্জ ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান নাসির বাপ্পি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৩২১ যানবাহন পারাপার হওয়ায় ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে যা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর এটিই ছিল সর্বাধিক। 

সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, করোনার মধ্যেও এভাবে গাদাগাদি করে ঈদে বাড়ির যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের। ঈদের পর করোনা আক্রান্তের রোগীর সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।