বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় রনি আচার্য্য (২৪) নামে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন নিহত রনি আচার্য্যের মা অর্পণা রাণী আচার্য্য।

রনি আচার্য্য বানিয়াচং ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের জাতুকর্ণ পাড়া মহল্লার শংকর আচার্য্যের ছেলে। তিনি হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজের ডিগ্রী প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

রনির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসের ২৭ তারিখ রনির হঠাৎ করে পেঠে ব্যথা শুরু হলে পরিবারের সদস্য (চাচাতো ভাই) জনি আচার্য্য তাকে চিকিৎসার জন্য বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে ডা. ইবনে সিনা ইকরাম পেটে ব্যথা হয়েছে জেনে কয়েকটা ওষুধ লিখে ভর্তি না করেই বাড়ি চলে যেতে বলেন। দুপুরের দিকে পেটের ব্যথা আবার শুরু হলে পুনরায় তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় জরুরি বিভাগের সহাকারি সার্জন ডা. জাহানারা আক্তার রনিকে বিকেল সাড়ে তিনটায় হার্ট ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা আছে দেখে পুরুষ ওয়ার্ডের ১০ নাম্বার বেডে ভর্তি করান। এ সময় রনির অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। কোন উপায় না পেয়ে রনিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ডা. জাহানারা আক্তার। ইতিমধ্যে রোগীর স্বজনরা সিলেট নেওয়ার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করতে গেলে তখই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রনি আচার্য্য। পরে রোগীর স্বজনদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে মর্মে ডেট সার্টিফিকেট প্রদান করেন সহকারি সার্জন ডা. জাহানারা আক্তার।

খবর পেয়ে রোগীর স্বজনরা ছুটে এসে কান্নাকাটি শুরু করলে টিএইও ডা. শাহ পরাণ বানিয়াচং থানায় ফোন করে পুলিশ আসতে বলে। পরে পুলিশের একটি দল জরুরি বিভাগের সামনে এসে রনির স্বজনদের চলে যেতে বলে।

নিহত রনির মা অর্পনা রাণী আচার্য্য সাংবাদিকদের জানান, আমার ছেলেকে পেটের ব্যথা ছিল বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিক মতো চিকিৎসা না দেওয়ার কারণে আমার ছেলে মারা যায়। পরবর্তীতে হার্টে সমস্যা থাকায় মারা গেছে বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়।

এতদিন পরে কেন আপনারা অভিযোগ দায়ের করলেন এই প্রশ্নের জবাবে নিহত রনির মা বলেন, ‌‘আমরা এমনিতেই ছেলেকে হারিয়ে পুরো পরিবার শোকাহত। তারপর আমাদেরকে পুলিশ দেখিয়ে ভয় দেখানোর ফলে অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে। আমার ছেলেকে তো আমার পাবো না। আর যাতে বিনা চিকিৎসায়, চিকিৎসকদের অবহেলায় কোনো মায়ের বুক খালি না হয় সেই জন্য আমি অভিযোগ দাখিল করেছি।’

বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার কর্মকর্তা আবুল হাদি মো. শাহ পরাণ বলেন, যেহেতু ইউএনও’র বরাবরে রনির পরিবার অভিযোগ দাখিল করেছে সেহেতু বিষয়টি তিনি দেখবেন। তদন্ত করতে যদি কোন ধরনের সাহায্য সহযোগীতা দরকার হয় আমি তা করব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার সমকালকে জানান, রনি মারা গেছে গত ২৭ তারিখ। তারা অভিযোগ দিয়েছে ১০ আগস্ট। তারপরও যেহেতু অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, আমরা সেটা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।