টাঙ্গাইলে এবার দির্ঘস্থায়ী বন্যায় জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে অন্তত ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে এই বিদ্যালয়গুলো। 

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার বন্যায় জেলার এক হাজার ৬২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোনোটি আংশিক কোনটি সম্পূর্ণভাবে ভাঙনে দেবে গেছে। কোনটির দেয়াল দেবে গেছে। আবার কোনটির মেঝে ফেটে গেছে। বিদ্যালয়ের মাঠগুলোও পানির স্রোতে ৫ থেকে ৭ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ৬৫টি বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র করায় ওইসব বিদ্যালয়েরও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।  

ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত ও নির্মাণ করতে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি  টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ইতিমধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ৬৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি  টাকার ক্ষয়ক্ষতির একটি তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ঘাটাইলের ৪১টি ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা, গোপালপুরে ৬৩টি বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৩২ লাখ টাকা, বাসাইলে ৫১টি বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার একশ ১টি বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৩৮ লাখ টাকা, দেলদুয়ার উপজেলার ৭২টি বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৪৪ লাখ টাকা, মির্জাপুরের ৬৮টি বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৪১ লাখ টাকা, কালিহাতীর ১০২টি বিদ্যালয়ের জন্য এক কোটি ৪০ লাখ টাকা, নাগরপুরে ৮৪টি বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৫১ লাখ টাকা, ভুঞাপুরের ৪৯টি বিদ্যালয়ের জন্য এক কোটি তিন লাখ টাকা ও সখিপুরে ৭টি বিদ্যালয় মেরামতের জন্য প্রায় ৩৩ লাখ টাকার প্রয়োজনের চাহিদাপত্র তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকশা মাইঝাল পশিচমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাইকশা মাইঝাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয় নতুনভাবে নির্মাণের জন্য এক কোটি বিশ লাখ টাকার চাহিদা পত্র তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস। 

ভুঞাপুরের চরচন্দুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেহাইমেঘারপটল প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুশুয়ারচর পুর্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইনছাব আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাসুদেবকোল প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফলদা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিহাতী উপজেলার বেলুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রানিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। যে কোন সময় এই ১১টি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ভাঙনরোধ করে বিদ্যালয়গুলো রক্ষার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, বন্যার পানি বেশি দিন অবস্থান করায় ক্ষয়তির পরিমাণও বেশি হয়েছে। নাগরপুরে দুটি বিদ্যালয় আগেই বিলীন হয়েছে। এবার ভেঙে গেছে একটি। স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় ওই দুটি বিদ্যালয় নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। নতুন করে এবারের ভেঙে যাওয়া বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্ধ চেয়ে মন্ত্রাণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত সব বিদ্যালয় মেরামতের জন্য এক মাসের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।